রাজনীতি

দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ

  নাজমুল ইসলাম মন্ডল: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৭:৫৭:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ


দীর্ঘ ১৭ বছর তিন মাস ১৪ দিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে দেশজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। তাকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। রাজধানীর পূর্বাচল ৩০০ ফিট এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে নান্দনিক ও সুবিশাল গণসংবর্ধনা মঞ্চ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে পূর্বাচল ৩০০ ফিট এলাকায় বিশাল পরিসরে সভামঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো নেতাকর্মী ও সমর্থক সমাবেশস্থল দেখতে ভিড় করছেন। সবার চোখেমুখে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের ছাপ স্পষ্ট।

সমাবেশস্থল পরিদর্শনকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, “তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় প্রায় অর্ধকোটি নেতাকর্মী ও সমর্থকের সমাগম ঘটবে। এটি হবে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক গণসংবর্ধনা।”

গত কয়েক দিনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাহউদ্দিন আহমেদসহ দলের শীর্ষ নেতারা সমাবেশস্থলের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, সদস্য সচিব হাজী মোস্তফা জামান, যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, এম কফিল উদ্দিন, আখতার হোসেন, আফাজ উদ্দিন, দক্ষিণখান থানা বিএনপির আহ্বায়ক হেলাল তালুকদারসহ ঢাকা-১৮ আসনের বিভিন্ন থানা ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা প্রস্তুতি কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।

এ সময় যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন হবে বিশ্বের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত এবং ইতিহাসের সবচেয়ে বর্ণাঢ্য প্রত্যাবর্তন—ইনশাআল্লাহ।”

নারী নেত্রীদের মধ্যেও সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। তারা বলেন,“২৫ ডিসেম্বর আমাদের কাছে ঈদের দিনের মতো আনন্দের। সারা জাতি সেদিন আনন্দের জোয়ারে ভাসবে।”

তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বিমানবন্দর থেকে শুরু করে তার বাসভবন ও কার্যালয় পর্যন্ত থাকবে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা বলয়।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “তারেক রহমানকে পুলিশ প্রটেকশন দেওয়া হবে। বিমানবন্দর থেকেই এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার সূচনা হবে।”

নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মোতায়েন থাকবে সোয়াট টিম, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি। বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত রুটে কয়েক হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাতেও নেওয়া হচ্ছে বিশেষ প্রস্তুতি।

জানা গেছে, গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসায় উঠবেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তার জন্য আলাদা চেম্বার প্রস্তুত করা হয়েছে। গুলশানের ৯০ নম্বর সড়কে ভাড়া নেওয়া একটি ভবন থেকে দলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “২৫ ডিসেম্বরের গণসংবর্ধনার মাধ্যমে দেশবাসীকে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হবে।”

দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, দীর্ঘদিন পর প্রিয় নেতাকে কাছে পাওয়ার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তারা প্রত্যাশা করছেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।

আরও খবর

Sponsered content