সারাদেশ

ওয়ার্ড কাউন্সিলর থেকে পূর্ণমন্ত্রী: আরিফুল হকের নতুন অধ্যায়

  নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক মতপ্রকাশ (সিলেট): ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ২:০০:৪৪ প্রিন্ট সংস্করণ


সিলেট সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে জনপ্রতিনিধিত্বের সূচনা করে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আরিফুল হক চৌধুরী। ধারাবাহিকভাবে একাধিকবার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর এবার তিনি পূর্ণমন্ত্রী হচ্ছেন। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সিলেটের এই নেতা।


সিলেট সিটি করপোরেশন-এ পথচলার শুরু

২০০৩ সালে সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। দায়িত্ব পালনকালে নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও কাজ করেন। পরবর্তীতে সিলেটের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন তিনি।

২০১৩ সালে তৎকালীন মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন এবং পরবর্তী নির্বাচনেও জয়ী হয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র হন। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সড়ক সম্প্রসারণ, ছড়া ও খাল উদ্ধারসহ নানা অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তিনি প্রশংসিত হন।


সিলেট-৪ আসনে বিপুল জয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমে সিলেট-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন চাইলেও শেষ পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্তে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হন তিনি। ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পান ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৪৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. জয়নাল আবেদীন পান ৬৯ হাজার ৯৭৫ ভোট। দুই প্রার্থীর ব্যবধান ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৭১ ভোট—যা এ আসনে অন্যতম বড় জয়।


প্রতিকূলতা পেরিয়ে শীর্ষে

ওয়ান-ইলেভেনের প্রেক্ষাপটে কারাবরণসহ নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে আবারও রাজনৈতিক অবস্থান সুদৃঢ় করেন তিনি। ২০২৩ সালের সিসিক নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও দলের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে সরে দাঁড়ান।

১৯৫৯ সালের ২৩ নভেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন আরিফুল হক চৌধুরী। ছাত্রজীবনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

নিজের রাজনৈতিক সাফল্যের পেছনে জনগণের ভালোবাসাকেই প্রধান শক্তি মনে করেন তিনি। আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “আমি জনগণের সেবক হতে চেয়েছি। জনগণ সব সময় আমার পাশে ছিলেন। দল আমার প্রতি যে আস্থা রেখেছে, সেটিই আমাকে এগিয়ে নিয়েছে।”

পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে নতুন গতি আনবেন—এমন প্রত্যাশা সিলেটবাসীর।

আরও খবর

Sponsered content