অপরাধ

ঝিকরগাছায় প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, সন্তান জন্মের পর থানায় মামলা

  এম. আমিরুল ইসলাম জীবন, স্টাফ রিপোর্টার: ১৪ মে ২০২৬ , ৯:১৬:৫৬ প্রিন্ট সংস্করণ

যশোরের ঝিকরগাছায় বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী এক তরুণী (২১) ধর্ষণের শিকার হয়ে পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় কবিরাজ আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ মার্চ নাভারন পল্লী ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ওই তরুণীর সন্তান জন্ম হয়। পরে গত সোমবার (১২ মে) ঝিকরগাছা থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় রুজু করা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফুটফুটে এক পুত্র সন্তান নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছেন ওই তরুণী। তবে বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি শিশুকে স্বাভাবিকভাবে কোলে নিতে পারেন না। এমনকি সন্তানকে দুধ খাওয়াতেও অন্যের সহায়তা প্রয়োজন হচ্ছে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করে বলেন, তাদের প্রতিবেশী ও স্থানীয় কবিরাজ আব্দুর রহমান (৬০) তার মেয়েকে ধর্ষণ করেছেন। তিনি জানান, তার মেয়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় ঠিকভাবে কথাও বলতে পারে না এবং প্রায়ই এদিক-সেদিক ঘোরাফেরা করত।

তার ভাষ্য, গত অক্টোবর মাসে মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন দেখে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়, সে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পরে জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েটি জানায়, অভিযুক্ত আব্দুর রহমান পান খাওয়ানো ও টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে কবিরাজির ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন।

ভুক্তভোগীর মা আরও বলেন, প্রতিবন্ধী হওয়ায় মেয়েটি বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেনি। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে সালিশ হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। বরং অভিযুক্ত পক্ষের লোকজন টাকা দিয়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার প্রস্তাব দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, থানায় মামলা করতে চাইলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ভয়ভীতি দেখান। ফলে সে সময় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে গত মার্চে সন্তান জন্মের পরও সমাজের বিভিন্ন মানুষের কাছে সহযোগিতা চাইলেও কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে থানায় মামলা করেন তারা।

এদিকে অভিযুক্ত আব্দুর রহমান সম্পর্কে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, তার আদি বাড়ি খুলনায়। প্রায় ১৫ বছর আগে একটি মামলার আসামি হয়ে তিনি পরিবারসহ ঝিকরগাছায় চলে আসেন। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে এবং ছেলেরা বিদেশে থাকেন। বর্তমানে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে এলাকায় বসবাস করছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুর রহমানের স্ত্রী বলেন, “পাগলের কথা বিশ্বাস করা যায় না।” তিনি ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ডিএনএ পরীক্ষার দাবি জানান।

ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজালাল আলম বলেন, প্রতিবন্ধী তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় মামলা রুজুর পর থেকেই পুলিশ আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

আরও খবর

Sponsered content