কৃষি বার্তা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন

  মোঃ অনিক দেওয়ান, স্টাফ রিপোর্টার ১৭ মে ২০২৬ , ১০:০৫:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় চলতি মৌসুমে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন, যা গত বছরের তুলনায় ৯১২ মেট্রিক টন বেশি।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় মোট ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। গত বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন।

এ বছর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ম্যাংগো ক্যালেন্ডার নির্ধারণ করা হয়নি। গাছে আম পরিপক্ব হলেই তা বাজারজাত করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে গত ১৪ মে থেকে জেলার কয়েকটি এলাকায় গুটি ও গোপালভোগ জাতের পাকা আম পাওয়া যেতে শুরু করেছে। আমচাষিদের ধারণা, আগামী ২০ থেকে ২৫ মে’র মধ্যে এসব জাতের আম বাণিজ্যিকভাবে সংগ্রহ শুরু হবে।

শিবগঞ্জ উপজেলার আমচাষি মনিরুল ইসলাম বলেন, “আর পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে আমার বাগানে আম সংগ্রহ শুরু করতে পারবো। আবহাওয়া কিছুটা প্রতিকূল হলেও এ বছর ফলন ভালো হয়েছে।”

তবে তিনি আমের ওজন ও ন্যায্যমূল্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “যেখানে ৪০ কেজিতে এক মণ হওয়ার কথা, সেখানে অনেক জায়গায় ৫০ থেকে ৫৫ কেজিতে এক মণ ধরা হয়। এছাড়া আমরা মাঠ পর্যায়ে যে আম ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি করি, সেটি ঢাকাসহ অন্যান্য এলাকায় গিয়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। এতে প্রান্তিক চাষিরা কাঙ্ক্ষিত লাভ পান না।”

কানসাট আম বাজারের আড়তদার বাবুল মেম্বার জানান, আম কেনাবেচার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, “২০ মে’র পর থেকে ধীরে ধীরে আম ক্রয় শুরু হবে বলে আশা করছি।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. ইয়াছিন আলী বলেন, “চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাটি, আবহাওয়া ও ভৌগোলিক অবস্থান আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ কারণে এখানকার আম দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় অধিক সুস্বাদু। তবে এখানকার আম তুলনামূলক একটু দেরিতে পাকে।”

তিনি আরও জানান, বিভিন্ন বাগান পরিদর্শনে দেখা গেছে, খুব শিগগিরই অধিকাংশ বাগানের আম পরিপক্ব হয়ে যাবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, “নিরাপদ আম ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে এবং বাজারজাতকরণ সহজ করতে জেলা প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।”

তিনি আরও বলেন, “গত ১১ মে আমচাষিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, এ বছর কোনো নির্দিষ্ট আম ক্যালেন্ডার থাকবে না। গাছে আম পাকলেই তা সংগ্রহ ও বাজারজাত করা যাবে। পাশাপাশি আমের ওজন সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের বিষয়েও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।”

আরও খবর

Sponsered content