প্রচ্ছদ » অপরাধ » সিলেটে র্যাব সদস্য ইমন হত্যা মামলার প্রধান আসামি বাপ্পি, একাধিক মামলার তথ্য পুলিশের
সিলেটে র্যাব সদস্য ইমন হত্যা মামলার প্রধান আসামি বাপ্পি, একাধিক মামলার তথ্য পুলিশের
সিলেট প্রতিনিধি: ২৫ মে ২০২৬ , ১২:০৭:৪১প্রিন্ট
সংস্করণ
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সিলেট নগরীতে বেপরোয়া হয়ে ওঠে কথিত কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বদানকারী আসাদুল আলম বাপ্পি। সুরমা নদীঘেঁষা তোপখানা, কাজিরবাজার, সুরমা মার্কেট ও কিন ব্রিজ এলাকাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় ছিল।
তবে এবার র্যাব সদস্য ইমন আচার্য হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন বাপ্পি। নিহত ইমন আচার্যের ঘটনায় তার স্বজন সুজিত আচার্য বাদী হয়ে শনিবার (২৩ মে) সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালি থানায় আসাদুল আলম বাপ্পিকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
জানা গেছে, আসাদুল আলম বাপ্পি নগরীর কাজিরবাজার এলাকার মোগলটুলা এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে পরিচিত একটি রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ছিনতাই ও মাদক সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলা রয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির বলেন, “বাপ্পি সিলেটের চিহ্নিত অপরাধীদের একজন। মাদক ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া ইমন হত্যার ঘটনায় তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।”
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২২ মে) নগরীর কিন ব্রিজ এলাকায় মাদকসেবী ও অপরাধীদের ধাওয়া করার সময় সাদা পোশাকে থাকা র্যাব সদস্য ইমন আচার্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসেন। তিনি আসাদুল আলম বাপ্পিকে আটক করার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত বাপ্পিকে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, পালিয়ে যাওয়ার সময় বাপ্পি একটি বাড়িতে ঢুকে এক শিশুকে জিম্মি করার চেষ্টা করে। পরে যৌথ অভিযানে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয় এবং বাপ্পিকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।
তবে মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই আইনি অবস্থান নির্ধারণ করবে।