মোঃ অনিক দেওয়ান, স্টাফ রিপোর্টার ২৫ মে ২০২৬ , ৫:৩৩:০২ প্রিন্ট সংস্করণ
শুরু হয়েছে মধুমাস। জ্যৈষ্ঠ মাসের এই সময়টিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সুস্বাদু ও রসালো মৌসুমি ফলের বাজার জমে উঠতে শুরু করেছে। আমের বেচাকেনা পুরোদমে শুরু হতে এখনও কয়েকদিন বাকি থাকলেও বাজারে ইতোমধ্যে বিক্রি হচ্ছে লিচুসহ বিভিন্ন জাতের ফল। এরই সঙ্গে বাড়ছে কাঁচা তাল বা তালশাঁসের চাহিদা। কয়েকদিনের টানা দাবদাহে মানুষের কাছে বিশেষ কদর পেয়েছে এই মৌসুমি ফল।
প্রচণ্ড গরমে শরীরের পানির চাহিদা মেটাতে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে বসেছে তালশাঁসের অস্থায়ী দোকান। তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে মানুষ ভিড় করছেন তালশাঁসের দোকানে।
জেলার বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাল সংগ্রহ করে শহরে বিক্রির জন্য নিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। সোমবার (২৫ মে) চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের নিউমার্কেট এলাকায় তালশাঁস বিক্রি করতে দেখা যায় আরিফ, সুজন, ইব্রাহিমসহ বেশ কয়েকজন বিক্রেতাকে। তারা সদর উপজেলার বড়পুকুরিয়া এলাকার বাসিন্দা। বছরের অন্যান্য সময় কৃষিকাজ করলেও এই মৌসুমে তালশাঁস বিক্রি করে বাড়তি আয় করেন বলে জানান তারা।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সামনে সড়কের পাশে মৌসুমি ফল তালশাঁস বিক্রি করছেন সদর উপজেলার মহিপুর গ্রামের জুয়েল রানা। তিনি জানান, এক হালি বা চারটি তালের শাঁস স্থানীয় ভাষায় “তালের চোখ” ৩০ টাকায় বিক্রি করছেন।
বিক্রেতা আরিফ ও জুয়েল রানা জানান, একটি তাল থেকে সাধারণত দুই থেকে তিনটি শাঁস পাওয়া যায়। বর্তমানে প্রতি পিস তালশাঁস ৭ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি হচ্ছে। তারা গ্রামে গ্রামে ঘুরে কচি তাল সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে আসেন। গাছে ফলের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে একটি তালগাছের মূল্য ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৭০০ থেকে ১ হাজার পিস তালশাঁস বিক্রি করেন তারা।
আরেক বিক্রেতা রহিম জানান, ক্রেতাদের পছন্দও ভিন্ন। কেউ একটু তরল শাঁস পছন্দ করেন, আবার কেউ খানিকটা শক্ত শাঁস খেতে ভালোবাসেন। তবে বেশিরভাগ মানুষ কচি ও নরম শাঁসই বেশি পছন্দ করেন। প্রতিদিন তিনি ৩০ থেকে ৪০ কাঁদি তাল বিক্রি করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা রেহমান আলী বলেন,
“গরমের সময় এই ফলটির চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ তালশাঁস কিনে খান। তবে এ বছর দাম কিছুটা বেশি।”
কচি তালের শাঁসের উপকারিতা সম্পর্কে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন বলেন,
“গরমের এই সময়ে কচি তালের শাঁস শুধু তৃষ্ণাই মেটায় না, এটি স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ উপকারী। এতে প্রচুর পানি, খনিজ লবণ ও ভিটামিন রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, তালের শাঁস শরীর দ্রুত শীতল করতে সাহায্য করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি শরীরের কোষের ক্ষয় রোধে সহায়ক এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দিতে ভূমিকা রাখে। তবে যাদের ঠান্ডাজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী বলেন,
“বজ্রপাত রোধে বিভিন্ন সড়কের পাশে তালগাছ রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কচি তালের শাঁসে জলীয় অংশ বেশি থাকায় এটি দেহের পানিশূন্যতা পূরণে সহায়তা করে। এতে ক্যালসিয়াম, আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা শরীরের জন্য উপকারী।”
তিনি আরও বলেন, মৌসুমি ফল হিসেবে তালশাঁস শুধু সুস্বাদুই নয়, গ্রামীণ অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।














