সারাদেশ

রাজনীতির ঊর্ধ্বে এক জননেতার শেষ যাত্রা : দবিরুল ইসলামের জানাজায় রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের বিরল দৃষ্টান্ত

  হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ৩১ মে ২০২৬ , ১১:১৭:০২ প্রিন্ট সংস্করণ

ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাতবারের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক আলহাজ্ব দবিরুল ইসলামের জানাজায় রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের এক বিরল দৃষ্টান্ত দেখা গেছে। তাঁর শেষ বিদায়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

শনিবার (৩০ মে) বিকেলে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ মাঠে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ সমবেত হন। জানাজা শেষে উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে পিতা-মাতার পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।

জানাজার আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়।

প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ তাঁর বাসভবনে যান। ঠাকুরগাঁও-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা ডা. আব্দুস সালাম ব্যস্ততার কারণে জানাজায় উপস্থিত হতে না পারলেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান এবং গভীর শোক প্রকাশ করেন।

জানাজায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী অংশ নেন। এ সময় জেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা আব্দুল হাকিম বলেন, “এ অঞ্চলের উন্নয়নের সঙ্গে দবিরুল ইসলামের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত।”

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু হায়াত নুরুন্নবী বলেন, “রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে দবিরুল ইসলাম ছিলেন এলাকার মানুষের একজন আপনজন। তাঁর অবদান বালিয়াডাঙ্গীবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”

১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন দবিরুল ইসলাম। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করে তিনি টানা সাতবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভোগার পর গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৭ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।

তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন মহল মনে করছে, তাঁর শেষ বিদায়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের একত্রিত হওয়া রাজনৈতিক সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

আরও খবর

Sponsered content