এম. আমিরুল ইসলাম জীবন, স্টাফ রিপোর্টার: ১৩ জুন ২০২৬ , ৮:০৮:০৫ প্রিন্ট সংস্করণ
যশোরের ঝিকরগাছায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে সরবরাহ করা খাদ্যের মান নিয়ে বিতর্ক থামছেই না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুশীলন এনজিওর বিরুদ্ধে এবার ওজনে কম, অপর্যাপ্ত সেদ্ধ এবং ময়লাযুক্ত ডিম সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এর আগে কাঁচা কলা ও অপর্যাপ্ত সেদ্ধ ডিম বিতরণের অভিযোগও উঠেছিল।
অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একের পর এক অনিয়মের পরও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় কর্মসূচির মান ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ঝিকরগাছা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের মিশ্রীদেয়াড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা ডিম ঠিকমতো সেদ্ধ না হওয়ায় বিতরণ বন্ধ রাখতে হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান জানান, প্রথম শিফটের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিম বিতরণের পর খোসা ছাড়াতে গিয়ে দেখা যায় সেগুলো সম্পূর্ণ সেদ্ধ হয়নি। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং ডিম বিতরণ স্থগিত করা হয়।
এদিকে শনিবার (১৩ জুন) কৃষ্ণনগর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা কিছু ডিমের খোসায় ময়লা লেগে থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকিফুজ্জামান আকিফ বলেন, ডিমগুলো ধোয়া ছাড়াই সেদ্ধ করায় খোসায় ময়লা রয়ে গেছে। এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী ডিম নিতে অনীহা প্রকাশ করে। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
অভিযোগের বিষয়ে সুশীলন এনজিওর ঝিকরগাছা এরিয়া ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ডিম সেদ্ধ করার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ত্রুটির কারণে কিছু ডিম কম সিদ্ধ হয়েছে। অন্য অভিযোগগুলোর বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
ঝিকরগাছা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওয়ালিউর রহমান বলেন, অপর্যাপ্ত সেদ্ধ ডিম সরবরাহের অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে ডিম সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, এটি একটি পাইলট প্রকল্প হওয়ায় পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
তবে অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পঁচা কলা, কাঁচা কলা, অপর্যাপ্ত সেদ্ধ ডিম এবং নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহের অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা উল্লেখ করে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চালু হওয়া এ কর্মসূচিতে খাদ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি কর্মসূচির উদ্দেশ্যও ব্যাহত হবে।














