প্রচ্ছদ » সারাদেশ » প্রকৃত সুবিধাভোগীদের ঘরে পৌঁছে যাবে সরকারি সহায়তা, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন
প্রকৃত সুবিধাভোগীদের ঘরে পৌঁছে যাবে সরকারি সহায়তা, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন
মোঃ শাহ্ আলম মন্ডল, দিনাজপুর প্রতিনিধি: ২০ জুন ২০২৬ , ৮:০৯:৩৬প্রিন্ট
সংস্করণ
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন -এমপি বলেছেন, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, দুর্নীতির ‘দ’ও বাংলাদেশে থাকবে না। সরকার এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে এবং সরকারি সেবা পৌঁছে যাবে মানুষের দোরগোড়ায়।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় আউশ ও রোপা আমন ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণকে সামনে রেখে সরকার বাজেট প্রণয়ন করেছে। বাজেটে কোনো বিশেষ শ্রেণিকে অগ্রাধিকার দিয়ে অন্য কাউকে বঞ্চিত করা হয়নি। সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়েই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, রাস্তার ভিক্ষুক থেকে শুরু করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে কর্মরত মানুষ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীসহ সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রয়োজনীয়তা ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো কাউকে পিছিয়ে না রেখে সবাইকে উন্নয়নের মূলধারায় নিয়ে আসা।
ডা. জাহিদ হোসেন আরও বলেন, সরকারি সুবিধা পাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে আর কোনো দপ্তরের পেছনে ঘুরতে হবে না। প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে সরকার বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, সরকারি সুযোগ-সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। জনগণ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। জনগণের কল্যাণ ও সেবাই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য।
জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, আপনারা ভোট দিয়ে আমাদের ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তার প্রতিদান হিসেবে আপনাদের সেবা করাই আমাদের দায়িত্ব। আপনাদের ভোট না থাকলে আমি মন্ত্রী হতে পারতাম না, তারেক রহমানও প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না। তাই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
সরকারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও সরকার উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও যেন দেশের প্রতিটি নাগরিক সমান সুযোগ-সুবিধা পায়, সে লক্ষ্যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
হাকিমপুর উপজেলার হিলি স্থলবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল অবস্থার বিষয়ে স্থানীয়দের দাবির প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, বন্দরের সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়নের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই সড়ক উন্নয়ন কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।
তিনি বলেন, হিলি স্থলবন্দর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার। এই বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ সময় বক্তব্য দেন হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মুনতাসির মামুন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আর্জিনা বেগম এবং কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মেজবাহুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার কৃষকের মাঝে আউশ ও রোপা আমন ধানের বীজ এবং রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের এই প্রণোদনা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন -এমপি সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ সহায়তা বিতরণ করেন। এ সময় উপকারভোগীরা সরকারের এই সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।