সারাদেশ

লক্ষ্মীপুরে মা ও ৩ মেয়েকে হত্যায় অজ্ঞাতদের নামে মামলা

  প্রতিনিধি ২৬ জুন ২০২৬ , ৫:৪৫:২৮ প্রিন্ট সংস্করণ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরের একটি বাসায় ঢুকে মা ও ৩ মেয়েকে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতদের নামেমামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে নিহত পরিবারের একমাত্র ছেলে জুনাইদ ইসলাম সিফাত অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীরপাড় সড়কের আমির হোসেন মাষ্টারের ৫ তলা ভবনের নিচতলার বাসায় ঢুকে শাহিনুর বেগম (৩৮), তার মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ফাতেমা আক্তার শিফাকে (১০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সে সময় তাদের চিৎকার শুনে জানালা দিয়ে বাসায় অপরিচিত লোককে দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আফরোজা বেগম রানী বাহির থেকে গেট বন্ধ করে দেন। এতে অভিযুক্ত ঘাতক অন্তর মজুমদার ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। পরে ওই নারী আশাপাশের লোকজনকে খবর দিলে তারা বাসায় ঢুকে নিহতদের রক্তাক্ত দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে। অভিযুক্ত ঘাতক বাসার ছাদে উঠে পার্শ্ববর্তী বাসার ছাদে গিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়দের গণপিটুনি তার মৃত্যু হয়।

জানা গেছে প্রায় দেড় বছর যাবত ঘাতক যুবক একই ভবনের ৫ তলায় ভাড়া থাকতেন। প্রায় ৮ মাস আগে তিনি বাসা পরিবর্তন করে অন্য এলাকায় চলে যান। অন্তর জানতো বাসা ভাড়ার টাকা সবাই শাহিনুরের কাছে জমা দেয় এবং তার কিছু স্বর্ণালংকারও ছিল। এতে ডাকাতির উদ্দেশ্যেই অন্তর ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনরা।

নিহত শাহিনুরের ছোট ভাই ছানা উল্লাহ বলেন, আমার বোনের স্বর্ণালংকার ছিল। সেগুলো লুট করতেই সে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। মূল ঘটনা উদঘাটনসহ অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা বের করার দাবি জানাচ্ছি।

নিহতের ছেলে জুনাইদ ইসলাম সিফাত বলেন, ঘটনাটি টাকা বা স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেও হতে পারে। কারণ বাড়িওয়ালা না থাকলে আম্মুর কাছে সবাই ভাড়া জমা রাখত। বাসা ছেড়ে যাওয়ার পর অন্তরকে আর এদিকে আসতে দেখিনি।

রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, একটি লোকের দ্বারা ৪ জনকে খুন করা সম্ভব কি না, এটা নিয়ে আমরা সবাই ধোঁয়াশার মধ্যে আছি। খুনের সাথে আর কেউ আছে কি না বা কি কারণে করা হয়েছে, আশা করি তদন্ত শেষে প্রশাসন আমাদেরকে জানাবে।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত শাহীনুরের ছেলে সিফাত বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। কি কারণে ঘটনাটি ঘটেছে তদন্ত শেষ হওয়া না পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।

আরও খবর

Sponsered content