অন্যান্য

তিন দশক ধরে তিন জেলায় ফেরি করে মিষ্টি বিক্রি করেন সমীর

  প্রতিনিধি ২৮ জুন ২০২৬ , ৮:৩১:০৭ প্রিন্ট সংস্করণ

ভোরের আলো ফোটার আগেই দুধ জ্বাল দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন সমীর চন্দ্র ঘোষ। এরপর সেই দুধ থেকে ক্ষীরশা, প্যাড়া সন্দেশ ও রসমালাই তৈরি করেন তিনি। মিষ্টি তৈরি শেষ হলে কাঁধে পাত্র তুলে বেরিয়ে পড়েন গ্রামের পথে। প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পথ হেঁটে তিনি জয়পুরহাট, বগুড়া ও নওগাঁর নানা গ্রামে নিজের হাতে তৈরি এসব মিষ্টি বিক্রি করেন।

এভাবেই জীবনের দীর্ঘ তিন দশক পার করেছেন সমীর। রসমালাইয়ের অপ্রতিদ্বন্দ্বী স্বাদ আর মানুষের প্রতি ভালোবাসার কারণে তিনি এলাকায় বেশ পরিচিতি পেয়েছেন। জয়পুরহাট আক্কেলপুর পৌর শহরের হাস্তাবসন্তপুর ঘোষপাড়ার বাসিন্দা সমীর এই পেশাটি পেয়েছেন উত্তরাধিকারসূত্রে। তাঁর বাবা ও দাদাও একইভাবে গ্রামে গ্রামে ঘুরে মিষ্টি বিক্রি করতেন। পূর্বপুরুষদের তেমন পরিচিতি না থাকলেও, নিজের সততা, কঠোর পরিশ্রম আর মিষ্টির অনন্য স্বাদের মাধ্যমে সমীর চন্দ্র আলাদা সুনাম অর্জন করেছেন।

প্রতিদিন ভোরে মিষ্টি তৈরির কাজ শেষ করে সমীর নিয়মিত জয়পুরহাট, বগুড়া ও নওগাঁর গ্রামগুলোতে বের হন। সারাদিন ঘুরে তিনি প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার মিষ্টি বিক্রি করেন। এই আয় দিয়েই চলে তাঁর সংসার। সমীর জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি এই পেশায় যুক্ত আছেন। অনেকে তাঁকে অন্য পেশায় যাওয়ার পরামর্শ দিলেও, এই কাজের প্রতি তাঁর বিশেষ টান রয়েছে। মানুষ তাঁর মিষ্টির অপেক্ষায় থাকে এবং এখনো বড় বড় দোকানের ভিড়েও গ্রামের মানুষ তাঁর ওপর ভরসা রাখেন—এটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দের বিষয়।

আক্কেলপুর উপজেলার রুকিন্দীপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহিনুর রহমান জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি সমীর বাবুর রসমালাই খেয়ে আসছেন এবং এখনো এর স্বাদ অপরিবর্তিত রয়েছে। গ্রামবাসী তাঁর আসার অপেক্ষায় থাকেন। নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বাসিন্দা বাসন্তী রানী বলেন, বাজারের অনেক মিষ্টি খেলেও সমীর দাদার রসমালাইয়ের মতো স্বাদ কোথাও পাওয়া যায় না, তাই তিনি এলেই পরিবারের সবার জন্য মিষ্টি কেনেন। বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার সোহেল রানার মতে, সমীর চন্দ্র বহু বছর ধরে তাঁদের এলাকায় আসছেন এবং তাঁর মিষ্টির মান ও দাম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালেই থাকে।

আরও খবর

Sponsered content