খেলাধুলা

ত্রিশালে ট্রাকচাপায় নিহত মায়ের পেট ফেটে জন্ম নেওয়া ফাতেমার পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  এনামুল হক | ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ২৮ জুন ২০২৬ , ১২:২০:৫০ প্রিন্ট সংস্করণ

 

ময়মনসিংহের ত্রিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মায়ের পেট ফেটে জন্ম নেওয়া শিশু ফাতেমার পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী, নগদ অর্থ, ঘরের জন্য টিন এবং মুদি দোকানের মালামাল প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের রায়মনি গ্রামে গিয়ে ফাতেমার নিহত বাবা-মা ও বোনের কবর জিয়ারত করেন। পরে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ফাতেমার দাদা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের হাতে খাদ্যসামগ্রী, নগদ অর্থ, নতুন টিন এবং দোকানের জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সহায়তায় সন্তোষ প্রকাশ করে পরিবারের সদস্যরা তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান, ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহাবুবুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাইমুল করিম লুইন, ত্রিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমরান হাসান বুলবুলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাইমুল করিম লুইন বলেন, ২০২২ সাল থেকে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান বিদেশে অবস্থান করেও পরিবারটির জন্য নিয়মিত মাসিক বাজার পাঠিয়ে আসছেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও তিনি পরিবারটিকে ভুলে যাননি। পাশাপাশি ফাতেমার অন্যান্য ভাই-বোনের লেখাপড়ার বিষয়েও খোঁজখবর রাখছেন।

ফাতেমার দাদা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, ছেলে, পুত্রবধূ ও এক নাতনি নিহত হওয়ার পর থেকেই তারেক রহমান নিয়মিত আমাদের পরিবারের জন্য মাসিক বাজার পাঠাচ্ছেন। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি জানান, ফাতেমা বর্তমানে ঢাকার আজিমপুর ছোট্টমণি নিবাসে সরকারি তত্ত্বাবধানে রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা প্রতি মাসে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ফাতেমার দাদার জন্য নতুন ঘর নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি তাদের বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা পাকাকরণ এবং সড়কটির নাম ফাতেমার নামে নামকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফাতেমার পরিবারের জন্য খাদ্যসামগ্রী, নগদ অর্থ, নতুন টিন ও ব্যবসার পুঁজি হিসেবে দোকানের মালামাল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফাতেমার আরও দুই ভাই-বোনের পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হবে এবং তাদের বাড়ির চলাচলের রাস্তা দ্রুত সংস্কার করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১৬ জুলাই ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার রায়মনি এলাকায় দিনমজুর জাহাঙ্গীর আলম তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রত্না বেগম ও ছয় বছর বয়সী মেয়ে সানজিদাকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছ থেকে ফেরার পথে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় একটি বেপরোয়া ট্রাক তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় নিহত রত্না বেগমের পেট ফেটে জীবিত জন্ম নেয় ফাতেমা। ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করলে তারেক রহমান পরিবারটির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে নিয়মিত মাসিক খাদ্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার সময় বাড়িতে থাকা দম্পতির বড় মেয়ে জান্নাত ও ছেলে এবাদত বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে রয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content