সারাদেশ

হাসপাতালের মর্গে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালাল স্বামী

  প্রতিনিধি ২৭ জুন ২০২৬ , ১২:৪৪:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালিয়েছেন স্বামী। অভিযোগ উঠেছে, স্বামী হাফিজ মোল্লার নির্যাতনের কারণের স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে, আর এজন্যেই মরদেহ মর্গে ফেলে রেখে পালিয়েছেন স্বামী।

নিহত সামিয়া আক্তার (২৭) লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাদুর ইউনিয়নের জয়নগর বাড়ির দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে। গতকাল শুক্রবার রাতে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ এনে জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। অভিযুক্ত হাফিজও জয়নগর এলাকার উত্তর গ্রাম মাইজের বাড়ির সিরাজ মোল্লার ছেলে।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ২টার দিকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সামিয়া। পরে তার স্বামী হাফিজ মোল্লা হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহ মর্গে রেখে দেয়। পরে খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন সামিয়ার স্বজনরা। গতকাল শুক্রবার রাতে হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ বাড়িতে এনে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১২ বছর আগে সামিয়াকে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন হাফিজ। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের সংসারে কলহ লেগে ছিল। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। সামিয়া ছাড়াও হাফিজে আরও দুইজন স্ত্রী আছে।

নিহত সামিয়ার ছোট ভাই মো. হাসান বলেন, ১৬ জুন আমার বোনকে পিটিয়ে আহত করেন হাফিজ। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আমার বোন মারা যান। তার মৃত্যুর খবর জানতে পেরেই মরদেহ মর্গে রেখে কৌশলে পালিয়ে যান হাফিজ।

হাসান আরও বলেন, ঘটনাটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাকে অবহিত করে। পুলিশ এসে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। সামিয়ার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত সামিয়ার বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার মেয়েটা খুব ভালো ছিল। বিয়ের পর থেকেই তার ওপর নানামুখী নির্যাতন চালিয়ে আসছিল হাফিজ। নির্যাতনের ঘটনায় ২৫ জুন রামগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারী ঘাতক হাফিজের ফাঁসি চাই। তার কারণে আমার দুই নাতি ও এক নাতনি মা হারা হয়ে গেছে।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ভিকটিমের বাবা থানায় আগেই একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানা থেকে আমরা একটি চিঠি পেয়েছি। যেখানে একজন নারী বিষক্রিয়ায় মারা গেছেন মর্মে সুরতহাল ও পোস্টমর্টেম করার কথা উল্লেখ রয়েছে। আমরা শেরেবাংলা নগর থানাকে সুরতহাল রিপোর্টসহ সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর জন্য চিঠি পাঠিয়েছি। সেই প্রতিবেদন পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও খবর

Sponsered content