প্রতিনিধি ১ জুলাই ২০২৬ , ১২:০৮:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ
দেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব দিন দিন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। মরণঘাতী এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে আরও ১৮০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। ২০২৬ সালের ৩০ জুন বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে (১৭:১০) সিনিয়র করেসপন্ডেন্টের পাঠানো তথ্য থেকে এই বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। নতুন করে এই ১৮০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ফলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপ যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি ডেঙ্গুর সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও এক ধরনের বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতির এই ক্রমবর্ধমান অবনতিশীল অবস্থার ধারাবাহিকতায় এর পূর্ববর্তী সময়েও আক্রান্তের সংখ্যা ছিল বেশ আশঙ্কাজনক। এর পূর্বে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে আরও ১৭২ জন রোগী ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। তারও আগে একদিনেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যুর মতো মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, এবং সেই একই দিনে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন আরও ১২৪ জন রোগী। একের পর এক আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই ক্রমবর্ধমান পরিসংখ্যান এটাই প্রমাণ করে যে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানোর সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির এই সুযোগে রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের নানাভাবে হয়রানি করার চক্রও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। রোগীদের সেবা প্রাপ্তি সহজ করতে এবং দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য রুখতে রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে মোট ১২ জন দালালকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে হাসপাতালে এসে কোনো ধরনের প্রতারণার শিকার না হন এবং নির্বিঘ্নে ডেঙ্গুসহ অন্যান্য রোগের চিকিৎসাসেবা পান, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়া এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে, যা সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধাক্কা। ময়মনসিংহ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৪ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মমেক হাসপাতালে হাম ও নিউমোনিয়ার মতো মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়ে এই শিশুদের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি বর্তমান সময়ে শিশু স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় হাসপাতালগুলোর সেবার মান ও সতর্কতার গুরুত্বকে আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।




















