প্রতিনিধি ৫ জুলাই ২০২৬ , ১১:১৭:০৩ প্রিন্ট সংস্করণ
মহান রবের দেওয়া শ্রেষ্ঠ উপহার হলো সন্তান। এই সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় এবং নবজাতকের কল্যাণের জন্য আকিকা করা ইসলামের একটি অত্যন্ত সুন্দর ও তাৎপর্যপূর্ণ সুন্নত। তবে অনেক বাবা-মায়ের মনেই একটি প্রশ্ন জাগে—কোনো কারণে সন্তানের আকিকা দিতে না পারলে কি সন্তানের কোনো ক্ষতি বা অমঙ্গল হয়? কিংবা বাবা-মা কি গুনাহগার হন?
ইসলামী শরিয়ত ও ফিকাহবিদদের মতে, এই বিষয়ে সমাজে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। আসুন জেনে নেওয়া যাক আকিকা না দিলে আসলেও কোনো ক্ষতি হয় কি না এবং এই সংক্রান্ত ইসলামের সঠিক বিধান।
পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘ধন-সম্পদ আর সন্তানাদি পার্থিব জীবনের শোভা-সৌন্দর্য’ (সুরা কাহাফ, আয়াত: ৪৬)।
অন্যদিকে হাদিসে সন্তান জন্মের পর আকিকা করার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। সালমান ইবনু আমির (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, সন্তানের সঙ্গে আকিকা সম্পর্কিত। তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত (অর্থাৎ আকিকার পশু জবেহ) কর এবং তার (সন্তান) অশুচি (চুল, নখ ইত্যাদি) দূর করে দাও। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৭৬)
আরেকটি হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সপ্তম দিনে তার নাম রাখতে, মাথা মুণ্ডন করতে এবং আকিকা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ২৮৩২)
এ ক্ষেত্রে ছেলে সন্তান হলে দুটি ও মেয়ে সন্তান হলে একটি পশু কুরবানি দিতে হয়। ইসলামিক স্কলার মিজানুর রহমান আজহারীর মতে, আকিকা সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেছেন- ছেলে হলে দুটি ছাগল দিয়ে আকিকা করো। আর যদি মেয়ে হয় তাহলে একটি ছাগল দিয়ে আকিকা করো। আর আকিকার ক্ষেত্রে সুন্নত হলো- সন্তান ভূমিষ্ঠের ৭ দিন পর আকিকা করা। সপ্তম দিনে সন্তানের মাথার চুল ফেলে দিতে হয় এবং তার একটি সুন্দর নাম রাখতে হয়।
ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, ছেলে-মেয়েদের আকিকা করা অনেকটা লাইফ ইনস্যুরেন্সের মতো। সেই জায়গা থেকে সন্তানের নিরাপত্তার জন্য এটা করা উচিত। কিন্তু আকিকা না দিলে সন্তান ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমন কোনো কথা হাদিসে আসেনি। তবে নিরাপত্তার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাধ্য অনুযায়ী আকিকা করা উচিত।
সামর্থ্য না থাকলে করণীয়
ইসলাম একটি সহজ ও সামঞ্জস্যপূর্ণ ধর্ম। যদি কোনো বাবা-মায়ের আর্থিক সামর্থ্য একেবারেই না থাকে, তবে আকিকা না দিলে তারা কোনোভাবেই গুনাহগার হবেন না। আল্লাহ তাআলা মানুষের সাধ্যের বাইরে কোনো বোঝা চাপিয়ে দেন না।
সুতরাং, আকিকা না দিলে সন্তানের বড় কোনো ক্ষতি বা অমঙ্গল হওয়ার যে ভয় সমাজে প্রচলিত আছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। তবে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অবহেলা করে এই সুন্দর সুন্নতটি ত্যাগ করা উচিত নয়।















