আন্তর্জাতিক

ভেনেজুয়েলায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজারে পৌঁছেছে

  প্রতিনিধি ৫ জুলাই ২০২৬ , ২:২৫:০৯ প্রিন্ট সংস্করণ

ভেনেজুয়েলায় গত ২৪ জুন আঘাত হানা জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত মানুষের সংখ্যা প্রায় তিন হাজারে পৌঁছেছে। শনিবার প্রকাশিত সরকারের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ২ হাজার ৯৫৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধ্বংসস্তূপে জীবিত মানুষের সন্ধানে পরিচালিত আন্তর্জাতিক উদ্ধার অভিযান ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারের তুলনায় মৃতের সংখ্যা ৩০০–এর বেশি বেড়েছে। তবে এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এ বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিক কোনো সংখ্যা প্রকাশ না করলেও জাতিসংঘের ধারণা, রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পের পর প্রায় ৫০ হাজার মানুষের এখনো কোনো খোঁজ মেলেনি।

লাতিন আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাসের উত্তরে অবস্থিত উপকূলীয় অঞ্চল লা গুয়াইরা। মাত্র ৩৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা দুই ভূমিকম্পে সেখানে অসংখ্য বহুতল ভবন ধসে পড়ে। হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে খোলা আকাশের নিচে কিংবা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

ভূমিকম্পের ১০ দিন পার হওয়ার পর আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় উদ্ধারকারী দলগুলো জীবিত ব্যক্তিদের উদ্ধারের আশা ক্ষীণ হয়ে আসায় ধাপে ধাপে তাদের অভিযান শেষ করছে। যদিও চলতি সপ্তাহেও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সাধারণভাবে প্রথম ৭২ ঘণ্টাকে জীবিত উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে ধরা হলেও, ভেনেজুয়েলায় তারও অনেক পরে কিছু অলৌকিক উদ্ধার অভিযান সফল হয়েছে।

উদ্ধার অভিযান শেষের দিকে এমন ইঙ্গিত দিয়ে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলের সদস্য ও উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত প্রশিক্ষিত কুকুরগুলোর সম্মানে পদক প্রদান করেন।

তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা গভীর শোকের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেক পরিবার এখনো তাদের স্বজনদের জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা ছাড়েনি, আবার অনেকে এই দুর্যোগে সবকিছু হারিয়েছেন।’

যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, সর্বশেষ অনুসন্ধানেও নতুন কোনো জীবিত ব্যক্তির সন্ধান না পাওয়ায় তারা ধীরে ধীরে অভিযান সমাপ্ত করছে। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ইতোমধ্যে তাদের কার্যক্রম শেষ করেছে। ফ্লোরিডা ও ভার্জিনিয়া থেকে যাওয়া দলগুলোও সপ্তাহান্তে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্তদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, দুর্যোগের পর সরকারের তাৎক্ষণিক সাড়া পর্যাপ্ত ছিল না। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরাই নিজেদের হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের উদ্ধারের চেষ্টা করেছেন।

তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, ভূমিকম্পের পরপরই হাজার হাজার সেনাসদস্য ও সরকারি কর্মীকে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত করা হয়েছিল।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরায় ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ধসে পড়া ভবন অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। তবে অনেক পরিবার এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে তাদের যথাযথভাবে দাফন বা শেষকৃত্য সম্পন্ন করা যায়।

জাতিসংঘের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই দুই ভূমিকম্পে প্রায় ৬৭০ কোটি মার্কিন ডলারের অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে, যা ভেনেজুয়েলার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬ শতাংশের সমান।

দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় আগে থেকেই দুর্বল হয়ে পড়া দেশটির অবকাঠামো ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আরও বড় চাপ সৃষ্টি করেছে।

এদিকে রাজধানী কারাকাসের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার মাইকেতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে শুধুমাত্র ত্রাণবাহী বিমান অবতরণের জন্য বিমানবন্দরটি আংশিকভাবে চালু রাখা হয়েছে। বাণিজ্যিক ফ্লাইট এখনো বন্ধ রয়েছে।

দেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, বিমানবন্দর সংস্কারের জন্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যেই পুনর্গঠনের একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

আরও খবর

Sponsered content