প্রতিনিধি ৩১ জুলাই ২০২৬ , ৮:৫২:৪০ প্রিন্ট সংস্করণ
গাজায় পূর্ণাঙ্গ নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর পরিকল্পনায় নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। সংগঠনটির এক শীর্ষস্থানীয় নেতা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির হাতে পৌঁছানো পরিকল্পনার লিখিত খসড়ায় হামাসের অস্ত্র সমর্পণের ধাপ, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি এবং পুরো প্রক্রিয়া কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতার ঘোষণা দেন। তার ভাষায়, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসন গঠনের পথ সুগম করবে এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করবে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাসের শীর্ষ নেতারা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, চুক্তিতে সংগঠনটির অস্ত্রের বিষয়টি এবং গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে সরে যাওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
হামাসের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, অস্ত্রসংক্রান্ত বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। একই সঙ্গে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহারের বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, হামাসসহ গাজায় সক্রিয় সব সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণে বোর্ড অব পিস একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছেছে। তিনি এটিকে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্পের মতে, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া কয়েকটি সুপরিকল্পিত ধাপে সম্পন্ন হবে। পুরো কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর ইসরায়েল তাদের সেনা গাজা থেকে প্রত্যাহার করবে। এরপর আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী নবগঠিত ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে গাজার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখা মিশর, কাতার ও তুরস্ককে ধন্যবাদ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। দীর্ঘদিন ধরেই হামাসের নিরস্ত্রীকরণের প্রশ্নটি ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবির্তা আলোচনার অন্যতম বড় অচলাবস্থার কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল।
অক্টোবর থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজন শিশু রয়েছে।
এদিকে গাজা যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা করতে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর একটি বৈঠক শিগগিরই কায়রোতে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে মিশরের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-কাহেরা। যদিও বৈঠকের নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করা হয়নি, তবে এতে যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও তুরস্কও অংশ নিচ্ছে।





















