প্রতিনিধি ২৫ অক্টোবর ২০২৬ , ৪:৪২:০৮ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরে ব্যবহৃত বাসের ছবি দিয়ে ফেসবুকে ‘ইস! একটা বড় সুযোগ ছিল। শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তার যুবক আবু বকর সিদ্দিকের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক এই রিমান্ডের আদেশ দেন।
রিমান্ড শুনানিতে আবু বকর সিদ্দিক বিচারকের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘মজা করে মন্তব্যটি করেছিলাম, আমার ভুল হয়ে গেছে।’ আবু বকর সিদ্দিক রাজশাহীর নিউ ডিগ্রি গভর্নমেন্ট কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের এসআই মো. ইয়াছিন পাইক আসামির ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। এ দিন শুনানিকালে আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে শুনানিতে অংশ নেন। এ সময় বিচারক আসামির পরিচয় জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায়নি। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।’ এরপর বিচারক আসামির কাছে জনতে চান, তার আইনজীবী আছে কি না ‘নেই’ বলে জানান।
রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী সফরে ছিলেন এবং বাসে চড়ে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। সেই সফরকালে আসামি স্নাইপার নিয়ে একটি পোস্টে মন্তব্য করেন। এটি স্বাভাবিক মন্তব্য হিসেবে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই ‘ প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে কি না এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানতে আসামিকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।’
এরপর বিচারক কমেন্টের বিষয়ে জানতে চাইলে আবু বকর বলেন, ‘এমনিতেই মন্তব্য করেছিলাম। আমার কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না, কেবল মজা করেই লিখেছিলাম।’ বিচারক তখন বলেন, ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কেউ এমন মন্তব্য করে?’ তখন আবু বকর নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান।
গত বুধবার গভীর রাতে রাজশাহীর পবা থানার কচুয়াতৈল এলাকার বাসা থেকে আবু বকর সিদ্দিককে আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গত শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন।
গত মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে সামরিক বিমানে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি বাসে চড়ে তিনি নগরীতে প্রবেশ করেন। এ সময় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব চলন্ত বাস থেকে হাত নেড়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ওই বাসে করেই ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেন তিনি। দুর্গাপূজা উপলক্ষে একটি মন্দির পরিদর্শন শেষে একই বাসে বিমানবন্দর ফিরে যান।
প্রধানমন্ত্রীর এই বাসযাত্রার ছবি দিয়ে ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ (The Beauty of Rajshahi) নামের একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়েছিল। ক্যাপশনে লেখা ছিল: ‘সবই বুঝলাম, রাজশাহীতে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর লাল-সবুজ বুলেটপ্রুফ বাসটা কই? রুয়েটের বাসে কেন? আপনারা কি জানেন রাজশাহীবাসী?’
ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়, ‘ইস! একটা বড় সুযোগ ছিল। শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।’ মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।
এ ঘটনায় ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের এসআই মো. মানিক হোসেন রাজধানীর রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন।





















