শেখ শোভন আহমেদ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ৪:২৯:০৪ প্রিন্ট সংস্করণ
আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি বা ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জ জেলায় রয়েছে তিনটি সংসদীয় আসন। স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে এসব আসনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে আসছিলেন, আর প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থীরা হারিয়েছেন তাঁদের জামানত।
তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। গোপালগঞ্জের আসনগুলোতে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী না থাকায় নৌকার ভোটব্যাংক দখলে নিতে মাঠে নেমেছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা।
চান্দারবিলবেষ্টিত মুকসুদপুর উপজেলা ও কাশিয়ানীর একাংশ নিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ-১ আসনে স্বাধীনতা পরবর্তী প্রতিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়ে আসছেন। এ আসন থেকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক বাণিজ্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী কর্নেল (অব.) মো. ফারুক খান। তিনি প্রতিবারই বিপুল ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাজিত করেন।
এবার আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় এ আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত ভোটারদের সমর্থন পেতে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে।
বিএনপি প্রার্থী সেলিমুজ্জামান সেলিম, জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হামিদসহ দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন এবং ভোট চাইছেন। এ আসনে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও। দলীয় প্রার্থী ছাড়াও দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। তারা হলেন— মুকসুদপুর উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও মুকসুদপুর পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম শিমুল এবং আনিসুল ইসলাম।
এর মধ্যে আশরাফুল আলম শিমুলকে ঢাকার রমনা এলাকা থেকে মারধরের পর পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে জুলাই আন্দোলনে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় এক ভোটার বলেন, “যিনি এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন, সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন— আমরা তাকেই ভোট দিতে চাই। দিন যত যাবে, নির্বাচনী মাঠ ততই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।”
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. আল মাসুদ বলেন, “গোপালগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতের শক্ত অবস্থান রয়েছে। গত এক বছর ধরে আমরা গ্রামে-গঞ্জে কাজ করেছি। আওয়ামী লীগ নির্বাচন না করায় মানুষ ভালো বিকল্প হিসেবে জামায়াতকে বেছে নেবে বলে আমরা আশাবাদী।”
বিএনপি প্রার্থী সেলিমুজ্জামান সেলিম বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনটি একটি বিশেষ দলের দখলে ছিল। সাধারণ মানুষ কখনও স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেনি। এবার নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হলে ভোটাররা ভয়ভীতিহীন পরিবেশে নিজের ভোট নিজে দিতে পারবে। সে সুযোগ পেলে ধানের শীষই জয়ী হবে।”
তিনি আরও বলেন, “রাজনীতিতে সক্রিয় মানুষ মাত্র ১০ শতাংশ। বাকিরা বিবেকবান সাধারণ ভোটার। আমি এলাকা ঘুরে বুঝেছি, মানুষ পরিবর্তন চায়। শুধু গোপালগঞ্জ নয়, সারাদেশেই আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী নির্বাচনে নেই। এ কারণে ধানের শীষের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।”
জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হামিদ বলেন, “আমরা একটি স্বচ্ছ রাজনৈতিক দল। আমাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা চাঁদাবাজির অভিযোগ নেই। এ কারণে শিক্ষিত যুবসমাজ আমাদের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। আমরা নির্বাচিত হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেব।”
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মিজানুর রহমান বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে নারীদের জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে কুটির শিল্প কারখানা স্থাপনে উদ্যোগ নেব। পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নমূলক কাজ করবো।”
আওয়ামী লীগ প্রার্থী না থাকায় গোপালগঞ্জ-১ আসনে এবার ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।




















