সারাদেশ

প্রকাশ্যে এলো এমপি নজরুলের দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামা, মিললো স্ত্রীর অবিবাহিত বায়োডাটা

  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ২২ জুলাই ২০২৬ , ৮:১১:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও, কাবিননামা, বায়োডাটা এবং পারিবারিক বিভিন্ন দাবি-পাল্টা দাবিকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এর পরপরই প্রকাশ্যে আসে তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী পরিচয় দেওয়া দুই নারীর ভিডিও বক্তব্য, একটি কাবিননামা এবং চালকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ। এরই মধ্যে প্রকাশিত একটি বায়োডাটার তথ্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।

প্রকাশিত বায়োডাটা অনুযায়ী, মরিয়ম খাতুন নামে এক নারীর চাকরির আবেদনসংক্রান্ত বায়োডাটায় গত ২২ জুন তারিখে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ‘সুপারিশ করছি’ লিখে স্বাক্ষর করেন। অন্যদিকে, এমপির দাবি অনুযায়ী, মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয় ১৭ জুন। তবে ২২ জুন তারিখের ওই বায়োডাটায় মরিয়মের বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে প্রকাশিত কাবিননামায় দেখা যায়, তিন লাখ টাকা দেনমোহরে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং মো. আবুল হোসেন সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

বিতর্কের বিষয়ে এক ভিডিও বার্তায় প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম দাবি করেন, মরিয়মের সঙ্গে তার স্বামীর বিয়ে পারিবারিকভাবে এবং তার সম্মতিতেই হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে মরিয়ম খাতুন দাবি করেন, এটি রাজনৈতিকভাবে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের সম্মানহানির উদ্দেশ্যে করা একটি ষড়যন্ত্র। তিনি বলেন, উভয় পরিবারের উপস্থিতিতেই তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, গত ১৩ জুলাই তিনি দুই স্ত্রীকে নিয়ে মগবাজারে শ্বশুরের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে গেলে তার ভাড়াটে গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ এবং তার সহযোগীরা তাদের একটি কক্ষে আটকে রেখে এক লাখ টাকা আদায় করেন এবং পরে আরও অর্থ দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, চাঁদা না পেয়ে চালক পূর্বপরিকল্পিতভাবে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন।

তবে প্রথমদিকে ভিডিওটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা, পরে দ্বিতীয় স্ত্রীকে স্বীকৃতি দেওয়া, কাবিননামা ও বায়োডাটার তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতির অভিযোগ এবং চালকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা না হওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও খবর

Sponsered content