সারাদেশ

কুয়াকাটায় ‘ইস্তানবুল’ হোটেলের নির্মাণকাজ বন্ধ, জমির মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন

  এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) ২৮ অক্টোবর ২০২৬ , ১:১৫:২২ প্রিন্ট সংস্করণ

 

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আলোচিত স্থাপনা তারকামানের হোটেল ‘ইস্তানবুল’-এর নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া নির্মাণকাজ চলার অভিযোগে মঙ্গলবার দুপুরে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এ সময় নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশসংবলিত একটি ব্যানারও টানিয়ে দেওয়া হয়।

কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যসচিব ও কলাপাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান এবং কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসিন সাদেক এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

স্থাপনাটিতে টানানো ব্যানারে লেখা রয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া নির্মাণকাজ চলায় নির্দেশক্রমে তা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়। আদেশে কুয়াকাটা পৌরসভা ও কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের নাম রয়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, কুয়াকাটা পৌর এলাকার মুসল্লীয়াবাদ গ্রামসংলগ্ন এলাকায় ‘ইস্তানবুল’ প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছিল। স্থানীয় সূত্রে প্রকল্পটির সঙ্গে পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর সংশ্লিষ্টতার কথা জানা গেছে। তিনি প্রয়াত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে।

কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক মো. ইয়াসিন সাদেক জানান, প্রকল্পটির জন্য বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদন নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভবন নির্মাণসংক্রান্ত আইন অনুসারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া নির্মাণকাজ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ছাড়া কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী জমিটি রেলওয়ের স্থাপনার জন্য বরাদ্দ রয়েছে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজার এসএ ২৯২ নম্বর খতিয়ানে প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমিজুড়ে প্রকল্পটির কার্যক্রম চলছিল। বর্তমান বিএস জরিপ অনুযায়ী জমিটি কুয়াকাটা পৌরসভার আওতাধীন। সেখানে অন্তত ছয় একর জমির উন্নয়ন ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।

এদিকে, জমিটির মালিকানা দাবি করে কলাপাড়ার হাড়িপাড়া এলাকার রাখাইন সম্প্রদায়ের বাসিন্দা উমাচ্যান মামলা করেছেন। তাঁর দাবি, জমিটির মালিক তাঁর দাদা চিথাও ও নাথোও।

 

আরও খবর

Sponsered content