প্রতিনিধি ২ জুলাই ২০২৬ , ১২:৫২:০৭ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর তীব্র যানজট নিরসনের লক্ষ্যে নতুন একটি প্রস্তাব সামনে এনেছে সরকার। ২০২৫-২০৪৫ মেয়াদের সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার (ইউআরএসটিপি) খসড়ায় কিলোমিটারপ্রতি ৬ দশমিক ২৭ টাকা হারে যানজট শুল্ক বা কনজেশন চার্জ আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এই শুল্ক রাজধানীর সব সড়কে কার্যকর হবে না। মূলত মেট্রোরেল, বিআরটি বা বাস র্যাপিড ট্রানজিট এবং উন্নত বাসসেবা চালু রয়েছে এমন করিডোর দিয়ে চলাচলকারী প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল এবং ট্রাকের ক্ষেত্রে এই শুল্ক প্রযোজ্য হবে। পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্ভরযোগ্য ও সহজলভ্য গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল এই উদ্যোগ কার্যকর করা উচিত।
বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় দশকে ঢাকার সড়কে যানবাহনের গতি নাটকীয়ভাবে কমেছে। ২০০৭ সালে ঢাকার সড়কে যানবাহনের গড় গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২১ কিলোমিটার, যা ২০২২ সালে কমে মাত্র ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে গতির পরিমাণ প্রায় ১৬ কিলোমিটার হ্রাস পাওয়ায় নগরের চলাচল ব্যবস্থার ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের অন্য একটি গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, যানজটের কারণে রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ৭৩টি মোড়ে নিয়মিত যানজটের কবলে পড়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এর ফলে দেশের অর্থনীতিতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং দৈনিক আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
প্রস্তাবিত এই শুল্ক আদায়ের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ইউআরএসটিপি খসড়ায় বলা হয়েছে, আধুনিক রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। নির্ধারিত সড়কে আরএফআইডি রিডার বসিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যানবাহন থেকে শুল্ক আদায় করা হবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) যৌথভাবে এই পুরো কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকির দায়িত্ব পালন করবে।



















