মোঃ ইলিয়াস আলী, নিজস্ব প্রতিবেদক: ৩ মার্চ ২০২৬ , ১১:১৯:৩১ প্রিন্ট সংস্করণ
ঈদকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও জেলা-র সেমাই কারখানাগুলোতে উৎপাদন ও ব্যস্ততা বেড়েছে। তবে এই সুযোগে কিছু অসাধু কারখানা মালিক স্বাস্থ্যবিধি ও নিয়মনীতি উপেক্ষা করে যত্রতত্রভাবে সেমাই উৎপাদন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন ভোক্তারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনে কারখানা সিলগালা করা হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দিন যত যাচ্ছে ততই বাড়ছে লাচ্ছা ও সাদা সেমাই উৎপাদন। অনেক কারখানায় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে সেমাই তৈরি করে দ্রুত প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। আবার সাদা সেমাই উৎপাদনের পর খোলা আকাশের নিচে শুকানোর জন্য ফেলে রাখা হচ্ছে, যেখানে ধুলাবালির পাশাপাশি পোকামাকড় অবাধে চলাচল করছে।
এমন চিত্র মিলেছে জেলা সদরের রহিমানপুর ইউনিয়নে অবস্থিত আদুরী গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি কারখানায়। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ওই কারখানায় অভিযান চালিয়ে সত্যতার ভিত্তিতে এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়, এরপরও আগের মতোই উৎপাদন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, এভাবে উৎপাদিত প্যাকেটজাত সেমাই খেয়ে মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, জরিমানা আদায়ের পরও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শুধু অর্থের লোভে সেমাই উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। মানুষের ক্ষতি হয়—এমন উৎপাদন বন্ধে অবিলম্বে কারখানা সিলগালা করার দাবি জানান তারা। পাশাপাশি জেলার প্রতিটি সেমাই কারখানায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। কারণ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এসব খাদ্য জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে, অথচ কারিগরদের নেই পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী।
নোংরা পরিবেশে সেমাই উৎপাদনের বিষয়ে আদুরী গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের ম্যানেজার ওসমান আলী পলাশ বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে বলেন, “সামান্য ত্রুটি থাকতে পারে। আমরা আরও ভালো পরিবেশে সেমাই উৎপাদনের চেষ্টা করছি।”
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর-এর জেলা অফিসের কর্মকর্তা মাহমুদুল কবির জানান, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি আদুরী ফুড কর্তৃপক্ষকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনিয়ম অব্যাহত থাকলে কারখানা সিলগালা করার সুপারিশ করা হবে। কারখানাটির ওপর নজরদারি চলছে।
অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম বলেন, “প্রতিটি কারখানায় নিয়মিত অভিযান চলমান থাকবে। মানুষ যেন নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য পায়, সে বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।”
জেলা ব্যবসায়ী সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় বর্তমানে অন্তত ২০টির বেশি সেমাই কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় প্রতিদিন গড়ে বিভিন্ন ধরনের ১০ মণেরও বেশি সেমাই উৎপাদন হয়ে থাকে।




















