প্রতিনিধি ৫ আগস্ট ২০২৬ , ৮:৩২:১৪ প্রিন্ট সংস্করণ
যথাবিহিত শ্রদ্ধা, আলোচনা অনুষ্ঠান, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও বিশেষ দোয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ পালিত হয়েছে। ৫ আগস্ট (বুধবার) গাজীপুরের আনসার ও ভিডিপি সদর দপ্তরসহ বাহিনীর সকল রেঞ্জ, জেলা, ব্যাটালিয়ন ও উপজেলা কার্যালয়ে দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
রাজধানীর সদর দপ্তরে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। অনুষ্ঠানে বাহিনীর বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সদস্য-সদস্যারা অংশ নেন।
দিবসটি উপলক্ষে সারাদেশের সকল কার্যালয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। মাঠপর্যায়ে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে অবস্থিত ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এছাড়া আনসার ও ভিডিপি হাসপাতালে রোগীদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন এবং বাদ জোহর শহীদদের রুহের মাগফিরাত ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, অনৈতিক চর্চা, অপেশাদারত্ব ও জবাবদিহিতাহীনতার সংস্কৃতি জনগণের প্রত্যাশার সাথে বাস্তবতার ব্যবধান তৈরি করে। তাই সততা, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার সাথে দায়িত্ব পালন করাই সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রধান কর্তব্য।
তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আনসার ও ভিডিপির প্রশাসনিক, প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল কার্যক্রমে যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে। সাম্যতা, ন্যায্যতা ও প্রাপ্যতার নীতির ভিত্তিতে বাহিনীর সকল কার্যক্রম ডিজিটাল রূপান্তরের আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে একটি আধুনিক, জনবান্ধব ও সেবামুখী বাহিনী গড়ে উঠছে।
মহাপরিচালক আরও বলেন, বিভিন্ন নেতিবাচক গোষ্ঠীর বাধা সত্ত্বেও ধারাবাহিক এই রূপান্তরের ফলে বাহিনীটি জনগণের আস্থা ও গৌরবের প্রতীক হিসেবে সুসংহত হচ্ছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সরকারি দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং নতুন বাংলাদেশের রূপান্তরের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত আটটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। মহাপরিচালক উপস্থিত সকলকে এসব প্রামাণ্যচিত্রের শিক্ষা ও মূল্যবোধ আত্মস্থ করে দেশপ্রেম ও পেশাদারত্বের সাথে দায়িত্ব পাুষ্ঠিত হয়।





















