মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৮:১০:৪৪ প্রিন্ট সংস্করণ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার এক গৃহবধূ সৌদি আরবে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী আকলিমা খাতুন (৩২) উপজেলার চৌমুনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের কোনাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। তার পাসপোর্ট নম্বর এ-১৮৪৬২৯৪৮।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আর্থিক অনটনের কারণে ঢাকার বনানীতে অবস্থিত আবির ব্রাদার্স নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সি এবং স্থানীয় দালাল জহির মিয়ার মাধ্যমে কয়েক মাস আগে গৃহকর্মীর ভিসায় সৌদি আরবে যান তিনি। সেখানে রিয়াদের একটি বাসায় কাজ শুরু করার পর থেকেই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন আকলিমা।
ভুক্তভোগী আকলিমা খাতুন ফোনে জানান, গত এক মাস ধরে তাকে মারধর ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। ঠিকমতো খাবার, চিকিৎসা কিংবা ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, “আমাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, যে এজেন্সির মাধ্যমে তাকে পাঠানো হয়েছে তারা তার কোনো খোঁজখবর রাখছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দালাল বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে এবং বর্তমানে দেশে ফিরিয়ে আনার কথা বলে ২ লাখ টাকা দাবি করছে। তবে অভিযুক্ত জহির মিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সে ভালো না লাগার কারণে দেশে আসতে চাচ্ছে। এতে আমার কোনো দোষ নেই। যদি কিছু হয়ে থাকে, সেটা এজেন্সির দোষ। এম্বাসির লোকদেরই তার খোঁজ রাখা উচিত।”
পরিবারের দাবি, নির্যাতনের বিষয়টি জানাজানি হলে বর্তমানে আকলিমা সৌদি সরকারের তত্ত্বাবধানে একটি সেইফ হাউজে রয়েছেন। তবে সেখানেও গত এক সপ্তাহ ধরে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ সীমিত বলে অভিযোগ উঠেছে। একটি অডিও বার্তায় তিনি নিজের জীবন হুমকির মুখে বলে উল্লেখ করে দ্রুত উদ্ধারের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
আকলিমার স্বামী মাসুক মিয়া বলেন, “অভাবের কারণে দালালের কথায় বিশ্বাস করে স্ত্রীকে সৌদি পাঠিয়েছিলাম। আমাদের তিনটি ছোট সন্তান রয়েছে। এখন স্ত্রী মহাবিপদে। সরকারের কাছে অনুরোধ, তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করুন।”
এ বিষয়ে জানতে আবির ব্রাদার্স-এ একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ওয়েজ আর্নারস কল্যাণ বোর্ড-এর সহকারী পরিচালক মো. নবীর হোসেন বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।”
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।




















