এম. আমিরুল ইসলাম জীবন, স্টাফ রিপোর্টার ১৬ নভেম্বর ২০২৫ , ৬:০০:১৭ প্রিন্ট সংস্করণ
যশোরের ঝিকরগাছায় নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোছা. রনী খাতুন ০৯ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, যশোরে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। দায়িত্বগ্রহণের পর নিজ কার্যালয়ে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি জানান, উপর্যুক্ত দায়িত্ব তিনি সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। “আমাদের কার্যক্রমে বসে থাকার কোন সুযোগ নেই। আপনারা আমাকে বসিয়ে রাখলে আমি বসে থাকব, আর আমাকে সহযোগিতা করলে আপনাদেরকে সাথে নিয়ে আমি দুর্বার গতিতে উন্নয়নের ধারাকে আরও বেগবান করবো,”—তিনি বলেন। তিনি যোগ করেন, “এখন সিদ্ধান্ত আপনারা—আপনি আমাকে কিভাবে চালাবেন; আপনারা সমাজের দর্পন। সমাজের ক্রুটি-দূরুতর হলে আমার কাজের ধারাবাহিকতা প্রসারিত হবে।”
নবাগত ইউএনও জানান, উপজেলার সকল ভেদাভেদ ভুলে নাগরিকদের সুবিধা-অসুবিধা তাঁকে জানালে তা দ্রুত সমাধানে কাজ করবেন। পাশাপাশি তিনি অনুরোধ করেন, মিথ্যা ও বানোয়াট প্রচারের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা থেকে বিরত থাকতে—যাতে সুনিচিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখা যায়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “উভয়ে মিলে ঝিকরগাছাবাসীকে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ একটি মডেল উপজেলা রূপে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হবো, ইন্না-ইনশাল্লাহ।”
নবাগত ইউএনওর সাবেক কর্মস্থল শ্যামনগর থেকে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, সেখানে তিনি প্রশাসনিক দক্ষতা, আন্তরিকতা ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে চোখে পড়ার মতো ভূমিকা রেখেছেন। স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা, সংবাদকর্মী ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ। জনসেবায় তার অনন্য অবদানের জন্য শ্যামনগরবাসী তাকে প্রশংসায় ভরিয়ে রেখেছিল। সেখানে মাত্র ১১ মাস ১৫ দিনের মধ্যে তিনি সবার মন জয় করে একজন সৎ, নিরপেক্ষ ও উদারমনা সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
শ্যামনগরে দায়িত্বকালীন সময়ে তিনি পৌরসভার পানীয় জল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ময়লা-আবর্জনা নিষ্কাশনের জন্য ডাম্পিং ব্যাসিং তৈরি, যমুনা পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এবং পরিবেশ সুরক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এছাড়া সুন্দরবন সংলগ্ন মালঞ্চ ও খোলপেটুয়া নদী তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ জনস্বার্থে নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম চালিয়ে তিনি জনসেবায় নিবেদিত ছিলেন।
প্রতিবর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে—বিপুল সংঘর্ষের সময়ে নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই বিএনপি’র বিবাদমান দুই পক্ষের সংঘর্ষ ঠেকাতে গিয়ে তাঁর সাহসিকতা দেশজুড়ে সংবাদে আলোচিত হয়েছিল। এছাড়া শ্যামনগরবাসীর অনুভব ছিল যে তিনি কেবল প্রশাসকের ভূমিকায় নন, বরং একজন সচেতন মানুষের ভূমিকায়ও দায়িত্ব পালন করেছেন; এজন্য জনগণ তার বদলিতে ক্ষোভ ও বিরোধ প্রকাশ করেছিল এবং বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধনও করা হয়েছিল।
ব্যক্তিগত তথ্যানুযায়ী, মোছা. রনী খাতুন ঝিনাঢাহের মহেশপুর উপজেলার বাতানগাছি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। তাঁর শ্বশুর বাড়ীও একই অঞ্চলে। তিনি বিবাহিত—স্বামী সাতক্ষীরার উপপরিচালক (পাসপোর্ট) মো. আজমল কবির। দম্পতির দুই পুত্র এবং এক কন্যা সন্তান আছে। তাঁর সরকারি কর্মজীবনে বিভিন্ন পদে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে—রাজশাহী কালেক্টরেট, নাটোর সহকারী কমিশনার (ভূমি), মেহেরপুর জেলা ও গাংনী উপজেলা, মুজিবনগরের অতিরিক্ত দায়িত্বসহ শ্যামনগর উপজেলার ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রনী খাতুনকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে পেয়ে ঝিকরগাছাবাসী গর্ববোধ করছে—কারণ তিনি কেবল আইনের অক্ষর অনুসরণ করেন না, আইনের নৈতিকতা ও মূলনীতি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, যা তাকে বিচক্ষণ ও উদারমনা কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।




















