লাইফস্টাইল

‘কথায় কথায় হল ছাড়, হল কি তোর বাপ দাদার? আমার ভাইয়ের রক্ত ঝরে, প্রশাসন কি করে?

  প্রতিনিধি ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ১২:১৮:০৮ প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বহিরাগতদের হামলার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হল ছাড়ার নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার সকাল ৯টার দিকে বিভিন্ন হল থেকে গুচ্ছ গুচ্ছ মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা কামাল রঞ্জিত মার্কেটে সমবেত হন। এসময় তারা প্রোক্টোরিয়াল বডির ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানান।

রোববার কম্বাইন্ড (বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি ও এএইচ) ডিগ্রির দাবিতে আন্দোলনরত নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের হামলায় অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হন। এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করে। পরে রাতে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষার্থীদের সোমবার সকাল ৯টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

শিক্ষার্থীরা এই নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে বিভিন্ন স্লোগান দেন—  ‘কথায় কথায় হল ছাড়, হল কি তোর বাপ দাদার? আমার ভাইয়ের রক্ত ঝরে, প্রশাসন কি করে? 

পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থী হিমেল বলেন, “আমাদের যৌক্তিক আন্দোলনে বহিরাগতদের হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। হল কারো বাবার সম্পত্তি নয় যে বলবে ছেড়ে দিতে হবে। জীবন যাবে, তবুও হল ছাড়বো না।”

কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থী আহাদ অভিযোগ করেন, “আমরা যৌক্তিক বিষয়ে আন্দোলন করছি। অথচ শিক্ষকরা বহিরাগত এনে আমাদের ওপর হামলা করিয়েছে। প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে টহল দিচ্ছে আমাদের কণ্ঠরোধের জন্য। যতক্ষণ না দাবি মানা হচ্ছে, আমরা হল ছাড়বো না।”

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, এর আগে গত বছর জুলাইয়ে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে রাতের নোটিশে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে এবারও। যদিও কিছু ছাত্রী ও প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হল ছাড়লেও আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দেন— “জীবন যাবে, তবুও হল ছাড়ব না।”

রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা হল ছাড়ার নির্দেশনা প্রত্যাখ্যান করে চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো—
১. একক ডিগ্রি, অর্থাৎ কেবল কম্বাইন্ড (বি.এসসি ইন ভেট ও এএইচ) ডিগ্রি চালু রাখতে হবে।
২. বহিরাগতদের হামলার ঘটনায় সম্পূর্ণ প্রোক্টোরিয়াল বডিকে পদত্যাগ করতে হবে।
৩. বহিরাগতদের দ্বারা ককটেল বিস্ফোরণ, ভাঙচুর ও অস্ত্রধারী হামলার ঘটনায় উপাচার্যকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
৪. ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না—এই নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং হামলায় জড়িত শিক্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

আরও খবর

Sponsered content