লাইফস্টাইল

তারুণ্য ধরে রাখতে নতুন ট্রেন্ড, জনপ্রিয় হচ্ছে চকলেট থেরাপি

  প্রতিনিধি ১৬ জুলাই ২০২৬ , ১০:২৩:১১ প্রিন্ট সংস্করণ

বয়স বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। তবে বয়সের ছাপ যতটা সম্ভব কমিয়ে দীর্ঘদিন তরুণ দেখানোর আকাঙ্ক্ষা এখন বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। শুধু তারকারাই নন, সাধারণ মানুষও ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে নানা ধরনের অ্যান্টি-এজিং থেরাপির দিকে ঝুঁকছেন। বলিরেখা, ত্বক ঝুলে যাওয়া কিংবা বয়সের অন্যান্য ছাপ কমাতে লেজার চিকিৎসা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রিজেনারেটিভ থেরাপি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে নতুন সংযোজন হিসেবে বেশ আলোচনায় এসেছে ‘চকলেট থেরাপি’। বিলাসবহুল স্পা ও বিউটি ক্লিনিকগুলোতে এখন ত্বকের যত্নে চকলেট ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চকলেটে থাকা ফ্ল্যাভোনল ও পলিফেনলের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং উজ্জ্বলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব থেরাপির কার্যকারিতা নিয়ে আরও বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

চকলেট দিয়ে কী কী থেরাপি হচ্ছে?

চকলেট অ্যান্টি-এজিং সিগনেচার ফেশিয়াল

ত্বকের বলিরেখা কমানো ও ঝুলে যাওয়া ভাব দূর করতে এই ফেশিয়াল করা হয়। দাবি করা হয়, চকলেটের উপাদান ত্বকে কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে এবং মৃত কোষ দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এই ফেশিয়ালে প্রথমে ওটমিল ও কোকো ক্লিনজার দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করা হয়। এরপর এক্সফোলিয়েশনের মাধ্যমে মৃত কোষ সরানো হয়। পরে আলট্রাসনিক প্রযুক্তির সাহায্যে ডার্ক চকোলেট অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সিরাম ত্বকে প্রবেশ করানো হয়। সবশেষে কোকো মাস্ক দিয়ে ম্যাসাজ করা হয়।

খরচ: প্রতি সেশনে আনুমানিক ১,৫০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা। তবে ক্লিনিক বা স্পায়ের মান অনুযায়ী খরচ পরিবর্তিত হতে পারে।

গোটা শরীরে চকোলেটের প্রলেপ দিয়ে থেরাপি করা হয়।

কোকো হাইড্রেটিং বডি র‍্যাপ

এটি শরীরের ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় থেরাপি। এতে গলানো ডার্ক চকোলেটের সঙ্গে এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে পুরো শরীরে লাগানো হয়। এরপর শরীর থার্মাল ফয়েল বা চাদর দিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট ঢেকে রাখা হয়। পরে হালকা গরম পানিতে পরিষ্কার করা হয়। এই থেরাপির উদ্দেশ্য হলো ত্বকের আর্দ্রতা বাড়ানো এবং মসৃণতা ফিরিয়ে আনা।

খরচ: প্রতি সেশনে প্রায় ৩,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকা।

হোয়াইট চকলেট অ্যান্ড রোজ ডি-ট্যান থেরাপি

রোদে পোড়া দাগ, মেচেতা বা ত্বকের কালচে ভাব কমাতে এই থেরাপি ব্যবহার করা হয়। এতে হোয়াইট চকলেটের নির্যাস ও গোলাপজল দিয়ে তৈরি মাস্ক ত্বকে লাগানো হয়। দাবি করা হয়, এটি ত্বকের মেলানিন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ত্বককে আরও উজ্জ্বল ও মসৃণ দেখায়।

খরচ: সাধারণত ১,২০০ থেকে ২,৫০০ টাকা। পুরো শরীরে করলে খরচ ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

তারকাদের খুবই পছন্দের চকোলেট দিয়ে ‘স্কিন গ্লো থেরাপি’

চকলেট ও রেড ওয়াইন থেরাপি

হলিউড ও বলিউড তারকাদের মধ্যে জনপ্রিয় এই থেরাপিকে ‘স্কিন গ্লো থেরাপি’ হিসেবেও প্রচার করা হয়। এতে ডার্ক চকলেটের সঙ্গে রেড ওয়াইন ও মধু মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করা হয়। রেড ওয়াইনে থাকা রেসভেরাট্রল এবং চকলেটের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের ক্ষতি কমাতে ও উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে বলে দাবি করা হয়। অনেক বিলাসবহুল স্পা-তে এর সঙ্গে বিভিন্ন এসেনশিয়াল অয়েলও ব্যবহার করা হয়।

খরচ: নামী ক্লিনিকগুলোতে প্রতি সেশনে প্রায় ৮,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

বয়সের ছাপ কমিয়ে তারুণ্য ধরে রাখার আকাঙ্ক্ষা থেকেই এমন নানা সৌন্দর্যচর্চার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনো ধরনের বিউটি থেরাপি নেওয়ার আগে ত্বকের ধরন ও সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে অবশ্যই জেনে নেওয়া উচিত।

আরও খবর

Sponsered content