সারাদেশ

গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তি: নেত্রকোনার গ্রামগঞ্জে ভোটারদের নেই স্পষ্ট ধারণা

  নেত্রকোনা প্রতিনিধি ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ৪:২৩:১৫ প্রিন্ট সংস্করণ

‘দেশের চাবি আপনার হাতে’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আসন্ন সাংবিধানিক গণভোট উপলক্ষে জনসচেতনতা কার্যক্রম ও প্রচার শুরু করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে এই প্রচারণা মূলত জেলা ও গ্রাম পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকায় নেত্রকোনা জেলার সাধারণ শ্রমিক ও প্রত্যন্ত গ্রামের ভোটারদের মধ্যে গণভোট নিয়ে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক ভোটারই জানেন না গণভোট কী, কিংবা কোন কোন বিষয়ে ভোট গ্রহণ করা হবে। ফলে না বুঝেই ভোট দিতে হবে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটের বিষয়বস্তু জনগণের কাছে তুলে ধরতে নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় ডিজিটাল বিলবোর্ড স্থাপন করেছে সরকার। পাশাপাশি গ্রাম ও শহরে গাড়িযোগে মাইকিং করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এই প্রচারণা শুধু শহরে সীমাবদ্ধ না থেকে মহল্লা থেকে মহল্লায় বিস্তৃত করা হয়েছে।

তবুও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। জেলার গ্রামাঞ্চলের অনেক ভোটার, বিশেষ করে নারী ভোটাররা জানান, তারা জানেন ফেব্রুয়ারিতে এমপি নির্বাচন হবে। অনেক প্রার্থী ভোট চাইতে এসেছেন। কেউ কেউ গণভোটের কথা বললেও বিস্তারিত জানতে চাইলে অধিকাংশ ভোটারই জানান—গণভোট কী বা কী বিষয়ে ভোট হবে, তা তারা জানেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মোট তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার চতুর্থবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হবে—

  • সংসদ, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্নির্মাণ

  • নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ

  • প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি

  • জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে নতুন সংবিধান বাস্তবায়ন

আলম ও শাহিদ নামে দুই শ্রমিক বলেন, “আমরা কখনো গণভোট দেইনি। সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে যে হ্যাঁ বা না ভোট হবে, সেটাও জানতাম না। আমাদের কেউ আগে গণভোট কী বা কীভাবে ভোট দিতে হবে—সে বিষয়ে কিছু বলেনি। সবাই শুধু এমপি ভোটের কথাই বলেছে।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে জনগণের অংশগ্রহণ অর্থবহ করতে হলে শুধু প্রচার নয়, সহজ ভাষায় ব্যাখ্যামূলক সচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা জরুরি। তা না হলে ভোটারদের একটি বড় অংশ না বুঝেই ভোট দিতে বাধ্য হবে।

আরও খবর

Sponsered content