আন্তর্জাতিক

গ্রিসে বিস্ফোরণে ভবন ধস, নিহত ৬

  প্রতিনিধি ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১১:৪০:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের ঐতিহাসিক প্লাকা এলাকায় বিস্ফোরণের পর একটি ভবন ধসে ছয়জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে গ্রিক সংবাদমাধ্যম।

শনিবার উদ্ধারকারী দল ধসে পড়া ভবন থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইআরটি ও অন্যান্য গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত চারজনের কাছে পাওয়া নথি ও ব্যক্তিগত সামগ্রী থেকে ধারণা করা হচ্ছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। নিহতদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী।

অন্য দুই নিহত ব্যক্তি ছিলেন ভবনটির দ্বিতীয় তলায় বসবাসকারী এক বয়স্ক দম্পতি- একজন ব্রিটিশ পুরুষ ও একজন গ্রিক নারী। এ ঘটনায় পাশের একটি ভবনের দুই নারী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

শুক্রবার জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা প্লাকার ছোট দুইতলা ভবনটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর ভবনটি ধসে পড়ে এবং আশপাশের কয়েকটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এথেন্সের মেয়র হারিস দুকাস জানান, প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের গ্যাস লিকেজ থেকেই বিস্ফোরণটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতি শুধু বিস্ফোরণের স্থানেই সীমাবদ্ধ নয়; পুরো সড়ক এবং পেছনের সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশের দুটি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত ভবনও ভেঙে ফেলতে হতে পারে বলে উল্লেখ করেন মেয়র।

গ্রিক দৈনিক কাঠিমেরিনির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত চার পর্যটকের শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে তাদের থাকার জায়গা ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার ফ্লাইটে ওঠার কথা ছিল। তবে তারা সেই ফ্লাইটে উঠতে পারেননি।

এদিকে, বিস্ফোরণের প্রায় এক বছর আগে প্লাকা এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা সম্ভাব্য বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট ও গ্যাস লিকের ঝুঁকি নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাস নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছিলেন বলে জানা গেছে।

কাঠিমেরিনিতে প্রকাশিত এক চিঠিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি সংগঠন জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবস্থাপনার সম্ভাব্য দুর্বলতা চিহ্নিত করতে নিরাপত্তা মহড়া আয়োজনেরও আহ্বান জানিয়েছিল।

‘উই রিমেইন অ্যাকটিভ’ নামে একটি নাগরিক আন্দোলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছে, বিস্ফোরণস্থলের সড়কের এক বাসিন্দা কয়েক সপ্তাহ ধরে গ্যাসের গন্ধ পাওয়ার কথা জানিয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিলেন। গ্রিক পুলিশের এক মুখপাত্রও ইআরটিকে জানিয়েছেন, বাসিন্দারা এ বিষয়ে অভিযোগ করেছিলেন। তবে বিস্ফোরণে জড়িত পদার্থের ধরন ও এর উৎস এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্লাকা ঐতিহাসিক অ্যাক্রোপলিসের পাদদেশে অবস্থিত এবং এটি এথেন্সের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা। অ্যাক্রোপলিস গ্রিসের সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থী যাওয়া প্রাচীন স্থাপনাগুলোর একটি।

আরও খবর

Sponsered content