প্রচ্ছদ

চন্দ্রঘোনায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার, প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

  প্রতিনিধি ২৩ জুলাই ২০২৫ , ৩:২৫:২০ প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে মাদক ব্যবসা। ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল, দেশি চোলাই মদসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য আজ সহজলভ্য হয়ে উঠেছে এখানকার কিশোর-তরুণদের জন্য। প্রতিনিয়ত ছড়িয়ে পড়ছে মাদকের ভয়াল জাল, বিপন্ন হচ্ছে পরিবার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবকিছু জেনেও রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান চালানো হলেও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে মাদক ব্যবসায়ীরা হয়ে উঠেছে আরো বেপরোয়া ও নির্ভীক।

বিশেষ করে চন্দ্রঘোনার লিচুবাগান, ফেরিঘাট, মহাজনের বট্টল, মিশনঘাট, দোভাষী বাজার, হাজী পাড়া, দেওয়ানজীর হাট, জিয়া মার্কেট, আধুরপাড়া থেকে চেয়ারম্যান বাড়ি, নাথপাড়া এবং সিকদারপাড়া চৌরাস্তার মোড় পর্যন্ত এলাকায় একাধিক স্পটে চলছে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা।
হাসেম খালের ব্রিজ ও কদমতলী প্রাইমারী স্কুল সংলগ্ন এলাকাও মাদক কেনাবেচার সক্রিয় পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

সচেতন মহলের প্রশ্ন— প্রশাসনের এই নীরবতা কি ইচ্ছাকৃত, না কি তারা কোনো শক্তিশালী সিন্ডিকেটের চাপে নিষ্ক্রিয়? এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র। অনেকেই মনে করছেন, প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় মাদকের বিস্তার ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মজিদ বলেন, “স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে ছাত্রদের মাঝে মাদক বিক্রি হচ্ছে, অথচ কেউ কিছু বলছে না। একসময় এই এলাকায় এমন পরিবেশ ছিল না।”

আরেকজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জানান, “যদি এখনই প্রশাসন কঠোর না হয়, তবে চন্দ্রঘোনা অচিরেই মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাদকবিরোধী কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হলে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। স্থানীয় নেতৃত্ব, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলো যদি সক্রিয় হয়, তাহলে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির রাশ টানা সম্ভব।

অবিলম্বে টাস্কফোর্স অভিযান, গোপন নজরদারি ও জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তবায়ন না হলে, চন্দ্রঘোনার ভবিষ্যৎ অন্ধকার— এমনটাই বলছেন সচেতন মহল।

আরও খবর

Sponsered content