নওগাঁ প্রতিনিধি ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ৪:২৭:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ
নওগাঁর মান্দায় দফাদার–মহল্লাদার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে অনিয়ম, স্বচ্ছতার ঘাটতি ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের ডোপ টেস্টে অন্তত একজন প্রার্থী মাদক সেবনে পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে মান্দা উপজেলা প্রশাসন।
গত ১৫ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষার পর প্রকাশিত সুপারিশপ্রাপ্ত তালিকায় একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। শুরু থেকেই বাদ পড়া প্রার্থীদের অভিযোগ—নিয়োগ নোটিশে বিভ্রাট, একাধিক পদের ক্ষেত্রে ওয়ার্ড নম্বর উল্লেখ না থাকা, পরীক্ষার সময়সূচির অসামঞ্জস্য এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে মেধাক্রম ও প্রাপ্ত নম্বর প্রকাশ না করা—সব মিলিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ছিল অস্বচ্ছ।
এরই মধ্যে কশব ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মহল্লাদার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত সাগর হোসেন–এর বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করতেন এবং সম্প্রতি মদ্যপ অবস্থায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী বলেন, “ডোপ টেস্টে নিয়োগপ্রাপ্তদের একজন পজিটিভ হয়েছেন। পজিটিভ হলে তার চাকরি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
তবে কোন প্রার্থী পজিটিভ হয়েছেন—সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি। নাম গোপন রাখার এই অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
নিয়োগ ঘিরে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কশব ইউনিয়নের একই ওয়ার্ডের আরেক প্রার্থী ইমরান হোসেন–কে নিয়ে। তার পরিবারের দাবি, নিয়োগ নিশ্চিত করতে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছিল। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে পরীক্ষায় অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে।
ইমরানের বাবা দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “একজন ইউপি সদস্য চেয়ারম্যানের কথা বলে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। আমরা টাকা দিতে না পারায় আমার ছেলের চাকরি হয়নি।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ও সাবেক উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা কামরুল আরেফিন।
তিনি বলেন, “নিয়োগ কমিটির মাধ্যমেই পরীক্ষা হয়েছে। ঘুষ দাবি বা ফলাফলে আমার কোনো ভূমিকা নেই।”
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও বিতর্ক তৈরি করেছে মান্দা ইউনিয়নের একটি দফাদার পদের ক্ষেত্রে ওয়ার্ড নম্বর উল্লেখ না থাকা এবং একটি প্রার্থীর গ্রামের নাম নিয়ে বিভ্রান্তি। স্থানীয়দের মতে, এসবকে সাধারণ ভুল হিসেবে দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে এগুলো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে অস্পষ্ট রাখার কৌশল হতে পারে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এখনো পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন পরীক্ষার নম্বর, মেধাক্রম কিংবা ধাপভিত্তিক মূল্যায়নের কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। এতে বাদ পড়া প্রার্থীদের ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
একাধিক প্রার্থী বলেন,“নিয়োগ যদি সঠিক ও স্বচ্ছ হতো, তাহলে নম্বর ও মেধাতালিকা প্রকাশে কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়।”
নিয়োগবিধি অনুযায়ী পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও অভিযোগের মাত্রা বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের একাংশ নওগাঁ জেলা প্রশাসন–এর মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, তদন্ত ছাড়া সত্য উদঘাটন ও আস্থার সংকট দূর করা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।




















