প্রতিনিধি ২১ আগস্ট ২০২৬ , ৬:২৩:১৫ প্রিন্ট সংস্করণ
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় আতাউর রহমান আতা মিয়া নামে এক অটোরিকশাচালককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর তার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছেলের মৃত্যু খবর শুনে তার মায়েরও মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বজনরা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের মির্জানগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের শিমুলতলী সড়কের একটি নির্জন মেঠোপথ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত আতাউর রহমান আতা মিয়া (৬০) ও তার মা জহুরা খাতুন (৭৫) কাপাসিয়া উপজেলার বাড়িষাব ইউনিয়নের নরোত্তমপুর এলাকার বাসিন্দা। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও পরিবারের অভাবের কারণে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন আতা মিয়া। ঘটনার পর থেকে নিহতের অটোরিকশার কোনো সন্ধান মিলেনি। পরবর্তীতে এ ঘটনায় চারজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পুলিশ জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে আড়াল বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা মির্জানগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের শিমুলতলী সড়কের নির্জন এলাকায় যান। সেখানে রাস্তার পাশে এক বৃদ্ধের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
স্থানীয়দের দাবি করে জানান, এটি কি শুধুই অটোরিকশা ছিনতাই, নাকি ছিনতাইয়ের আড়ালে ছিল পূর্বপরিকল্পিত হত্যার ছক? কারণ, নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে মাথায় একাধিক কোপ এবং এরপর অটোরিকশা গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
আটকদের একজন রাকিবুলের স্ত্রী জানান, তার স্বামীই আতাউর রহমানকে হত্যা করে অটোরিকশাটি নিয়ে যান এবং পরে সেটি বিক্রি করে দোকানের ঋণ পরিশোধ করেন। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। তবে তার এ বক্তব্যের সত্যতা পিবিআই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
এদিকে আতা মিয়ার মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছলে একমাত্র সন্তানের মৃত্যুর খবর সহ্য করতে না পেরে তার বৃদ্ধা মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তিনিও মারা যান বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
আড়াল বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম জানান, ‘আতা মিয়ার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।’





















