প্রতিনিধি ৩১ আগস্ট ২০২৬ , ৪:৫২:০০ প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে গৃহকর্মী মীম আক্তারের মরদেহ ফেলে পালানোর হত্যা মামলায় গৃহকর্তা-গৃহকর্ত্রীসহ তিনজনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন শুনানি শেষে এই রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন।
রিমান্ডে যাওয়া তিন আসামি হলেন মীম (১৫) যে বাসায় কাজ করতো ওই বাসার গৃহকর্তা ফয়সাল আহমেদ (৩৫), তার স্ত্রী রাহেমা খাতুন রেশমা (২৯) এবং ফয়সালের শ্বশুর এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক (৪৭)।
আসামি ফয়সাল পেশায় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার, তার শ্বশুড় আব্দুর রাজ্জাক মেডিসিন ব্যবসায়ী, রেশমা গৃহিনী।
গত ২৪ অগাস্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহফুজা আক্তার আসামিদের সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আজ শুনানিকালে তাদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
আজ রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের শুনানিতে আসামি পক্ষের আইনজীবী ওই গৃহকর্মী আত্মহত্যা করেছে মর্মে দাবি করেন অ্যাডভোকেট ইলিয়াস কাঞ্চন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায় , মীম আক্তার (১৫) প্রায় এক বছর ধরে ফয়সাল আহমেদের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিল। কাজ শুরুর পর থেকেই তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। নির্যাতনের কথা মীম ফোনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার পরিবারকে জানালে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। গত ১২ অগাস্ট অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে মীমের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে প্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মীমের পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ।
এর মধ্যে গত ১৩ অগাস্ট সকালে ফয়সাল মীমের পরিবারকে ফোন করে জানান, মীম বাসা থেকে টাকা-পয়সা চুরি করে অন্য এক ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। গত ১৭ অগাস্ট মীমের পরিবারের সদস্যরা আসামিদের বাসায় গিয়ে তার খোঁজ করলে তাদের গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ২০ অগাস্ট খবর পেয়ে মীমের পরিবার শাহবাগ থানায় যায় এবং পুলিশের সহায়তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে সংরক্ষিত মরদেহ শনাক্ত করে।
নিহত মীম কুমিল্লা জেলার বাসুদেব বাজার এলাকার ফজলু মিয়ার মেয়ে। মীমের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা গত ২১ অগাস্ট শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন।ঘটনার পর আসামিরা নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এলাকায় দীর্ঘদিনের বাসস্থান ছেড়ে ডেমরা এলাকায় আত্মগোপন করেন। গত ২০ অগাস্ট রাতে অভিযান চালিয়ে ডেমরার বামৈল এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।





















