সারাদেশ

দখল-অবহেলায় অস্তিত্ব সংকটে চকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

  সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ , ১২:৫১:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ

দখল, জরাজীর্ণ অবকাঠামো, জলাবদ্ধতা ও স্যানিটেশন সংকটে বিপর্যস্ত নেত্রকোনা পৌরশহরের চকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, সুপেয় পানি, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার ও খেলার মাঠের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ। এর ওপর বিদ্যালয়ের জমির একাংশ বেদখলে থাকায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে প্রবেশের পথের পাশে রয়েছে ড্রেন। আঙিনায় ময়লা-আবর্জনা ও জলাবদ্ধতার চিত্রও চোখে পড়ে। মূল ভবনের শ্রেণিকক্ষগুলো জরাজীর্ণ; ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থাও নেই। শৌচাগার ও নিরাপদ পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এমনকি পাশের বাড়ির শৌচাগার ব্যবহার করতে হয় বলেও জানা গেছে।

বিদ্যালয়টির বেদখল হয়ে থাকা জায়গায় ভবনের বারান্দা ঘেঁষে টয়লেট, রান্নাঘর ও দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এতে দুর্গন্ধ ও রান্নার ধোঁয়ায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। একাধিকবার আলোচনা করেও দখলে থাকা জায়গা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পাঁচটি শ্রেণিতে এখানে মোট ১১২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পাঁচজন শিক্ষিকা। শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতার কারণে দুই শিফটে পাঠদান করতে হয়। বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও স্যানিটেশন সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পিয়ারা বেগম বলেন, “আমি যখন বিদ্যালয়ে আসি, তখন এখানে তিন কক্ষের একটি টিনশেড ঘর ছিল। পরে ২০১০ সালে বিদ্যালয়ের পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু জায়গার স্বল্পতা ও কিছু জমি বেদখলে থাকায় সুপেয় পানি ও স্যানিটেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পর্যাপ্তভাবে গড়ে তোলা যায়নি।”

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের মোট জমির পরিমাণ সাত শতাংশ, যা একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য পর্যাপ্ত নয়। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলার মাঠ প্রয়োজন। এর মধ্যে জমির কিছু অংশ প্রতিবেশীদের দখলে থাকায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি চঞ্চল খান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিদ্যালয়ের জমিদাতা হিসেবে তাঁকে সভাপতি করা হয়। দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ দেড় থেকে দুই ফুট প্রশস্ত ছিল। পরে সেটি আট ফুট করা হয়েছে। পাশাপাশি টিনশেডের একটি শৌচাগার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় এসব সুবিধা এখনও অপ্রতুল।

নেত্রকোনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আজম বলেন, বিদ্যালয়টির অবকাঠামো ও স্যানিটেশন-সংক্রান্ত সমস্যা দীর্ঘদিনের। অতীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এসব বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। বর্তমানে বিদ্যালয়টির সমস্যা সমাধানে নতুন প্রকল্প ‘পিডিএ-৫’-এর তালিকায় এটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যালয়ের সংকট নিরসন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দীর্ঘদিনের এসব সমস্যার সমাধান, বেদখল জমি উদ্ধার এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ এখন জরুরি।

আরও খবর

Sponsered content