মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধি ৬ জুন ২০২৬ , ১০:০৮:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার বিপ্র বেলঘড়িয়া ইউনিয়নের দিয়ার কাজিপুর (ত্রিমোহনী) এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখল, রোপিত গাছ কেটে ফেলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে শরিকদের জমি দখল ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৪ সালের ২৮ জানুয়ারির ১২৫৭ নম্বর দলিলের মাধ্যমে তেলকুপি গ্রামের মৃত ইব্রাহিম খানের উত্তরাধিকারীরা মোট ১১২ শতাংশ জমির মালিকানা লাভ করেন। পরবর্তীতে উত্তরাধিকার সূত্রে জমিটি বিভিন্ন অংশে বিভক্ত হয়ে ভোগদখলে ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, ১৯৯৬-৯৭ সালের দিকে পরিবারের এক সদস্য ওই সম্পত্তির একটি অংশে বাড়ি নির্মাণ করে জবরদখল করেন। পরে সম্প্রতি আরও কিছু জমি দখলের চেষ্টা এবং সেখানে স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ নিয়ে শরিকদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সম্প্রতি ঈদুল আজহার আগে তাদের অংশে থাকা সুপারি ও লেবুর গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানালে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে, জমি দখলের অভিযোগের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও সমাবেশে দাবি করা হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন মাকসুদ খান পলাশ, রবিউল আউয়াল, খাদেমুল ইসলাম, হাবিব খান, মিন্টু খান ও আলমসহ স্থানীয়রা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চললেও সম্প্রতি তা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।
তবে জবরদখল ও গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত পক্ষের সদস্যরা। তাদের দাবি, জমি নিয়ে শরিকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও সীমানা-সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। বিষয়টি পারিবারিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য।
এ বিষয়ে নলডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ভুক্তভোগী পরিবার পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা এবং বিরোধের নিরপেক্ষ সমাধানে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।




















