সারাদেশ

নেত্রকোনার মদনে লাহুত মিয়া হত্যা: আট মাসেও চার্জশিট না হওয়ায় পুলিশের কাছে আবেদন

  নেত্রকোনা প্রতিনিধি ২০ জানুয়ারি ২০২৬ , ২:৩৭:২৬ প্রিন্ট সংস্করণ

নেত্রকোনার মদন উপজেলার বারবুড়ি গ্রামে প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত লাহুত মিয়া হত্যাকাণ্ডের আট মাস পার হলেও মামলার চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি মদন থানা পুলিশ। দীর্ঘসূত্রতা ও আসামিদের হুমকির কথা উল্লেখ করে নিহতের বড় ভাই ও মামলার বাদী আবুল বায়েছ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেছেন।

মামলার এজাহার ও আবেদনের সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১১ মে পারিবারিক বিরোধের জেরে একটি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে অভিযুক্ত মানিক মিয়া লাহুত মিয়াকে পিটিয়ে বল্লম দিয়ে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এতে অন্যান্য অভিযুক্তদের হামলায় আশদ আলীসহ আরও কয়েকজন আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় লাহুত মিয়া ও আশদ আলীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে আশদ আলী সুস্থ হয়ে উঠলেও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ মে লাহুত মিয়া মারা যান। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আবুল বায়েছ বাদী হয়ে মদন থানায় ৩৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০২৫ সালের ১৭ মে মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা হয় এবং এসআই গোলাম রসুলকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়।

মামলার তদন্তে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে দীর্ঘ সময়েও চার্জশিট দাখিল না হওয়ায় প্রধান আসামি মানিক মিয়া ছাড়া অন্য আসামিরা বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে জামিনে মুক্তি পান।

বাদী আবুল বায়েছ অভিযোগ করে বলেন, চার্জশিট না থাকায় জামিনে মুক্ত আসামিরা তাকে এবং মামলার সাক্ষীদের মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রকাশ্যে ও পরোক্ষভাবে হুমকি দিচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রধান আসামিদের নাম বাদ দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় তদন্তে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব করা হচ্ছে বলে তাঁর দাবি। তিনি আরও বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে জনসম্মুখে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট দিতে এত দীর্ঘ সময় নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই গোলাম রসুল বলেন, “ঘটনাটি প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত হলেও মামলায় ৩৪ জন আসামি রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কার আঘাতে নিহত হয়েছেন তা নিরূপণে সময় লাগছে। তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খুব শিগগিরই চার্জশিট দাখিল করা হবে।”

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, “একটি হত্যা মামলায় প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সময় প্রয়োজন হয়। মামলাটি তদন্তের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই চার্জশিট দেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম বলেন, “মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। খুব শিগগিরই চার্জশিট প্রদান করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

আরও খবর

Sponsered content