সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা: ৪ এপ্রিল ২০২৬ , ৩:৪৩:৪৮ প্রিন্ট সংস্করণ
নেত্রকোনা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মাঝে মধ্যে কঠোরতার কথা শোনা গেলেও বাস্তবে পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হচ্ছে না। বরং নতুন নতুন কৌশলে চলছে ঘুষ বাণিজ্য—এমন অভিযোগ সেবা গ্রহীতাদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাসপোর্ট অফিসকে কেন্দ্র করে সক্রিয় রয়েছে একটি দালাল চক্র। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে অফিসের কিছু কর্মচারী ও কম্পিউটার দোকানদারদের যোগসাজশ রয়েছে। পাসপোর্টের আবেদন করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, প্রতিদিন এই অফিসে অন্তত ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেন হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কম্পিউটার দোকানদার জানান, দুপুর ১২টার পর ফাইল জমা না নেওয়ার কারণে অনেক সেবা গ্রহীতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অফিসে পৌঁছাতে পারেন না। ফলে তারা দালাল বা দোকানগুলোর মাধ্যমে কাজ করতে বাধ্য হন।
তিনি বলেন, “বাস্তবে টাকা দিলেই এখানে সবকিছু দ্রুত হয়ে যায়। অফিসের ভেতরে বিভিন্ন ব্যক্তি এ কাজে জড়িত।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মালা, সহকারী হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এবং ডাটা এন্ট্রি কন্ট্রোল অপারেটর রবিউল আউয়াল চৌধুরীর সঙ্গে দালালদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে—এমন অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের।
শুধু নতুন পাসপোর্ট নয়, মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) নবায়নের ক্ষেত্রেও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে যাদের জাতীয় পরিচয়পত্রে জটিলতা রয়েছে, তারা অতিরিক্ত টাকা দিয়ে পুরোনো পাসপোর্ট নবায়ন করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে এই ঘুষের পরিমাণ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ২০২১ সালের জরিপ অনুযায়ী, পাসপোর্ট খাত দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম।
একজন সেবা গ্রহীতা বলেন, “ঘুষ ছাড়া এখানে কোনো সেবা পাওয়া যায় না বললেই চলে। সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়।”
আরেক ভুক্তভোগী ইমন জানান, অফিসের সামনে একটি দোকানে তার কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রায় ৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “এই টাকা না দিলে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়।”
এ বিষয়ে নেত্রকোনা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, “আমি কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই। কেউ অতিরিক্ত টাকা নিলে তার দায়ভার তাকে নিতে হবে।”
তবে প্রশ্ন উঠেছে, সিসিটিভি নজরদারির মধ্যেও কীভাবে দালাল চক্র অফিসের ভেতরে সক্রিয় থাকে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য ফাহিম রহমান খান পাঠান বলেন, “নেত্রকোনা পাসপোর্ট অফিস অনিয়ম ও দুর্নীতির আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”





















