মিজানুর রহমান মিন্টু ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৮:৫৬:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ
পঞ্চগড়-১ আসনে (সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী) বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে দলটির এক নেতাকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেছেন আদালত।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে পঞ্চগড়-১ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির বিচারক মিনহাজুর রহমান—যিনি যুগ্ম জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন—এই আদেশ দেন।
অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন এম এ মজিদ, পঞ্চগড় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। রায় ঘোষণার পর তিনি জরিমানার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেন।
এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড়-১ আসনের শাপলা কলি প্রতীকের নির্বাচনি এজেন্ট নাসির উদ্দীন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৪ ফেব্রুয়ারি তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় অনুষ্ঠিত এক উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় এম এ মজিদ ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “ধানের শীষের বাইরে ভোট দিলে খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ বক্তব্যে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকায় সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হয়, যা অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি পরিবেশের পরিপন্থি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দায়ের করা অভিযোগটি আমলে নিয়ে পঞ্চগড়-১ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি সোমবার শুনানির দিন ধার্য করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, শুনানিতে উভয় পক্ষ উপস্থিত ছিলেন। অভিযুক্ত এম এ মজিদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৭(১)(ক) ও ৭৭(৩)(খ) ধারায় গঠিত অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়। এ সময় তিনি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
আদালত তাকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৭(৩)(খ) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ডের পরিবর্তে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। অনাদায়ে সাত দিনের কারাদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়। পরে এম এ মজিদ নির্ধারিত অর্থদণ্ড রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেন।















