সারাদেশ

পেঁয়াজ ও পাটের হাটকে কেন্দ্র করে স্থবির হচ্ছে শৈলকুপার নগরজীবন

  তানভীর সরদার, স্টাফ রিপোর্টারঃ ১৩ এপ্রিল ২০২৬ , ৩:০০:৫১ প্রিন্ট সংস্করণ


ঝিনাইদহের শৈলকুপা শহরে দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিতভাবে হাট-বাজারের বিস্তারের ফলে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজ ও পাটের হাটকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে তীব্র যানজট দেখা দিচ্ছে, যা স্থানীয়দের দৈনন্দিন চলাচলে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা যায়, শৈলকুপা একটি প্রাচীন ব্যবসাকেন্দ্র। ব্রিটিশ আমলেরও আগে কুমার নদের তীরে এ বাজার গড়ে ওঠে। একসময় ধান, গম, পাট, মসুর, ছোলা ও আখের গুড়সহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের বড় মোকাম ছিল এটি। নদী নাব্য থাকায় এসব পণ্য বড় নৌকায় করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন করা হতো। তখন জনসংখ্যা কম থাকায় সপ্তাহে শনি ও মঙ্গলবার ছোট পরিসরে হাট বসত।

১৮৬২ সালের দিকে শৈলকুপায় থানা প্রতিষ্ঠার পর ধীরে ধীরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর গড়ে ওঠে এবং হাটের পরিসরও বাড়তে থাকে। ১৯৮২ সালে উপজেলা হিসেবে উন্নীত হওয়ার পর প্রশাসনিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পৌরসভায় উন্নীত হলে জনসংখ্যা ও ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হয়।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে হাটের জন্য নির্ধারিত জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ে। কুমার নদী ভরাট করে হাটের আয়তন বাড়ানো হলেও ভরাটকৃত জায়গার বড় অংশ দখল করে দোকানঘর ও গুদাম নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে হাট এখন শহরের প্রধান সড়কেই বসছে।

এদিকে ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেছে ফুটপাতও। ব্রিজ রোডসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় দোকানের সামনে ফুটপাত দখল করে রাখায় পথচারীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। হাটের দিনগুলোতে শত শত ভ্যান, আলমসাধু, ইজিবাইক, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের চাপ বাড়ায় সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।

স্থানীয়রা জানান, এ অবস্থায় জরুরি প্রয়োজনে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজ ও পাটের হাটের দিন পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

এ বিষয়ে শৈলকুপা পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, পৌর এলাকায় জায়গা সংকটের বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। এ নিয়ে ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং সমস্যা সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও ব্যবসা সম্প্রসারণের কারণে শৈলকুপা শহরে পরিকল্পিতভাবে হাট-বাজার স্থানান্তর বা সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে পেঁয়াজ ও পাটের হাটের জন্য পৃথক স্থান নির্ধারণ না করলে ভবিষ্যতে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।

আরও খবর

Sponsered content