সারাদেশ

যুবলীগ নেতার প্রায় সাত কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক করল দুদক

  প্রতিনিধি ১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৬:১৮:৪৪ প্রিন্ট সংস্করণ

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় যুবলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলুর প্রায় সাত কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ক্রোক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে আদালতের আদেশে উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের কাজিরচরে এই সম্পদ ক্রোক করা হয়। এ সময় পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুবক্কর সিদ্দিকীকে সম্পদের রিসিভার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

দেলোয়ার হোসেন দেলু উপজেলার কাজিরচর গ্রামের মো. সুরুজ আলীর ছেলে এবং ডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, আয়বহির্ভূত প্রায় ৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দেলোয়ারের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের গাজীপুরের সহকারী পরিচালক মো. এনামুল হক। তদন্তের সময় জানা যায়, তিনি এর মধ্যে ৬ কোটি ৮১ লাখ টাকার সম্পদ হস্তান্তর কিংবা বিক্রির চেষ্টা করছেন। এই সম্পদ বেহাত হওয়ার আশঙ্কায় দুদক আদালতে আবেদন করলে নরসিংদীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ হুমায়ুন কবীর ক্রোক ও রিসিভার নিয়োগের আদেশ দেন।

ক্রোক করা সম্পদের মধ্যে রয়েছে কাজিরচর গ্রামে ২৭ শতক জমির ওপর নির্মিত ২ হাজার ৩০৪ বর্গফুটের তিনতলা ডুপ্লেক্স বাড়ি (মূল্য ৩ কোটি ১৩ লাখ ২৭ হাজার ৪৪ টাকা) এবং একই গ্রামে ৬ শতক জমির ওপর নির্মিত ৩ হাজার ৬৫০ বর্গফুটের পাঁচতলা ভবন (মূল্য ৩ কোটি ৬৮ লাখ ৮ হাজার ২৫৭ টাকা)। মোট ক্রোককৃত সম্পদের মূল্য ৬ কোটি ৮১ লাখ ৩৫ হাজার ৩০১ টাকা।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদকের সম্মিলিত জেলা কার্যালয় গাজীপুরের সহকারী পরিচালক মো. এনামুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন একই কার্যালয়ের আরেক সহকারী পরিচালক মো. মশিউর রহমান, পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবক্কর সিদ্দিকী, নরসিংদী জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সিনিয়র সদস্য হলধর দাসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেলোয়ার প্রথমে ডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হন। পরে শীতলক্ষ্যা নদী ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলেন তিনি। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য নিজস্ব সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীও গড়ে তুলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর দেলোয়ার এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছেন।

পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবক্কর সিদ্দিকী বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনায় দুইটি ভবন আমরা ক্রোক করেছি ও রিসিভার হিসেবে আমি দায়িত্ব নিয়েছি। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই সম্পদ যেন বেহাত ও বিক্রি না হয় সেজন্য আমরা ক্রোক করেছি। এগুলো আমাদের লোকবল দিয়ে দেখাশোনা করা হবে। আর ভবনে যারা ভাড়াটিয়া বাসিন্দা ছিলেন তাদের দ্রুত অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’

আরও খবর

Sponsered content