সারাদেশ

রংপুরে বৃহস্পতিবার শুরু তাবলিগ জামাতের তিন দিনব্যাপী বিভাগীয় ইজতেমা

  মো: সাকিব চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১১:১২:২০ প্রিন্ট সংস্করণ

 

রংপুরে তাবলিগ জামাতের তিন দিনব্যাপী বিভাগীয় ইজতেমা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর)। নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আমাশু কুকরুল এলাকায় ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার কার্যক্রম শুরু হবে; চলবে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) পর্যন্ত। আয়োজকদের মতে, মাঠ প্রস্তুতি ও সার্বিক আয়োজন ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।

আয়োজক কমিটি জানায়, রংপুর বিভাগের আট জেলা থেকে সাথিরা অংশ নেবেন। পাশাপাশি ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসবেন মুসল্লিরা; প্রায় ২০০ বিদেশি মেহমান অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রস্তুতি ও সুবিধাসমূহ

  • ইজতেমা মাঠজুড়ে শামিয়ানা, বিদ্যুৎ সংযোগের পাশাপাশি শতাধিক জেনারেটর প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
  • ওজু ও গোসলের জন্য পর্যাপ্ত পানি ও ট্যাপের ব্যবস্থা—একসঙ্গে প্রায় ৫ হাজার মানুষ ওজু করতে পারবেন।
  • দক্ষিণ পাশে অযুখানা, সড়কের পূর্ব পাশে শৌচাগার–পাম্প–ট্যাংক স্থাপন করে অস্থায়ী গোসলখানা নির্মাণ করা হয়েছে।
  • মাঠ প্রস্তুতে ধান কাটার পর বিশাল খোলা জায়গা সমতল করা হয়েছে; একসঙ্গে ৩০–৪০ হাজার মুসল্লি অবস্থান করতে পারবেন।
  • স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে অর্ধশতাধিক মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক মাঠে নিয়োজিত থাকবে।

আয়োজক কমিটির সদস্য খালেকুজ্জামান রাজা বলেন, “প্রায় ২০০ বিদেশি মেহমান আসবেন। বিগত ছয় মাস ধরে আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি—সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশসহ সবাই সহযোগিতা করেছেন।”

তাবলিগ জামাতের স্থানীয় সংগঠক শামীমুজ্জামান শামীম বলেন, “মুসল্লিদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আলোকায়ন, পানি, স্যানিটেশন ও চিকিৎসা–সব দিকেই বাড়তি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।”

ইজতেমা মাঠ ও আশপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয়ে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। থাকবে পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে পুলিশ টহল, কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে।

রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন, “ইজতেমার নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজকদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।”

রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী বলেন, “আয়োজক কমিটি, জেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বিঘ্নে ইজতেমা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”

ইজতেমাকে ঘিরে আমাশু কুকরুল এলাকায় ইতোমধ্যে শত শত স্বেচ্ছাসেবক মাঠ প্রস্তুত ও ব্যবস্থাপনায় কাজ করছেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা—উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবারের বিভাগীয় ইজতেমা সফলভাবে সম্পন্ন হবে।

আরও খবর

Sponsered content