সারাদেশ

রংপুরে সংঘর্ষের খবর সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ

  মো: সাকিব চৌধুরী | স্টাফ রিপোর্টার ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৬:১২:৩৬ প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুরের মাহীগঞ্জ থানাধীন বিহারী গ্রামে পারিবারিক বিরোধ ও ভণ্ড কবিরাজি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার রংপুর মহানগর প্রতিনিধি মো. জাহিদুল ইসলাম জাহিদকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।

মামলার নথি, সাক্ষী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে পাভেল নামের এক ব্যক্তি সাংবাদিক জাহিদুল ইসলামকে খবর দেন যে, বিহারী গ্রামে কবিরাজের বাড়ির সামনে ভাই–ভাতিজার মধ্যে জমিজমা ও ভণ্ড কবিরাজি বন্ধ করা নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখতে পান— মোবারক কবিরাজ তার বড় ভাই শাহজানকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করছেন। এ সময় মোবারকের ছেলে সাজ্জাদুল সুজন (৩০) আলু রোপণের লাঙল দিয়ে তার বড় চাচা রহিম চৌধুরী (৬৫)-এর মাথায় আঘাত করেন এবং অপর ছেলে সজল (২৫) বাঁশের লাঠি দিয়ে সরোয়ার চৌধুরীর মুখে আঘাত করেন।

এক পর্যায়ে শাহজান অজ্ঞান হয়ে পড়লে মোবারক ও তার ছেলেরা সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম ভিডিও ধারণ করছেন দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, তারা তিনজন মিলে সাংবাদিকের হাতে থাকা ক্যানন ইওএস ৩০০০ডি (১৮ মেগাপিক্সেল) ডিএসএলআর ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলে। এতে ক্যামেরার ভেতরে থাকা ভিডিও ফুটেজ নষ্ট হয়ে যায়। এ সময় সাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়ে তার বাম হাতের একটি আঙুল ভেঙে দেওয়া হয় এবং তাকে মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেওয়া হয়।

ঘটনার দুই দিন পর প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ৯ ডিসেম্বর সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম জানতে পারেন, তাকে ২ নম্বর আসামি করে মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে মোবারক কবিরাজের ছেলে সাজ্জাদুল সুজন মাহীগঞ্জ মেট্রো থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং–২/৭৮)। পরবর্তীতে তিনি আদালতের মাধ্যমে আগাম জামিন গ্রহণ করেন।

এলাকাবাসী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মামলার সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাংবাদিক জাহিদুল ইসলামকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। কারণ তিনি কেবল ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। মামলার সাক্ষী কপিল উদ্দিন (৬৫) ও লালমিয়া (৩০) জানান, মামলায় বর্ণিত ঘটনাবলি সত্য নয় এবং তাদের অগোচরে সাক্ষী করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃতপক্ষে জমিজমা নয়, মোবারক কবিরাজের ভণ্ড কবিরাজি বন্ধের দাবিই সংঘর্ষের মূল কারণ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মোবারক কবিরাজের বিরুদ্ধে অতীতেও নানা বিতর্ক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) আফজাল হোসেন খান জানান, মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

আরও খবর

Sponsered content