সারাদেশ

রাজশাহীতে তীব্র সার সংকট, আলুচাষে বিপাকে কৃষক

  মো. গোলাম কিবরিয়া ।। রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৯:২৪:৫৭ প্রিন্ট সংস্করণ

 

চলতি মৌসুমের  শুরুতেই তীব্র সার সংকটে পড়েছেন রাজশাহীর কৃষকরা। বিশেষ করে আলুচাষিরা পড়েছেন চরম বিপাকে। সরকারি মূল্যে প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে অতিরিক্ত দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক কৃষক, আবার কেউ কেউ সারই পাচ্ছেন না।

কৃষকরা জানান, সার কিনতে ডিলারের দোকানের সামনে ভিড় জমালেও সরকারি দামে ডিএপি ও টিএসপি সার মিলছে না। যেখানে সরকারি দরে বস্তাপ্রতি ডিএপি সারের মূল্য এক হাজার ৫০ টাকা, সেখানে তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। অপরদিকে টিএসপি সার সরকারি ভাবে পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে। তবে বস্তাপ্রতি ১ হাজার ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা দিলে কোথাও কোথাও মিলছে এই সার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নভেম্বর মাসের বরাদ্দ না আসা পর্যন্ত অনেক ডিলারই টিএসপি সার সরবরাহ করতে পারছেন না। তবে বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দিলে গোপনে এসব সার পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের।

এর ফলে আলুচাষে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে কয়েকগুণ। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন জেলার তানোর, গোদাগাড়ী, মোহনপুর ও পবা উপজেলার আলুচাষিরা। রাজশাহী জেলার মধ্যে এসব উপজেলাতেই সবচেয়ে বেশি আলু চাষ হয়।

পবার দামকুড়া বাজারের সার ডিলার নজরুল ইসলাম বলেন, “আমার দোকানে ডিএপি ও টিএসপি সারের চরম সংকট চলছে। কৃষকদের চাহিদামতো সার দিতে পারছি না। আগে তিন বস্তা চাইলে কোনোভাবে এক বস্তা দিতে পারতাম, এখন সেটাও সম্ভব হচ্ছে না। ডিসেম্বর মাসে নতুন বরাদ্দ এলে আবার সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে।”

একই পরিস্থিতি জেলার পুঠিয়া, দুর্গাপুর, বাগমারা, চারঘাট ও বাঘা উপজেলাতেও। এসব এলাকায় ডিএপি সার সীমিত আকারে পাওয়া গেলেও টিএসপি সার প্রায় নেই বললেই চলে। অথচ টিএসপি ও এমওপি সার প্রয়োগ করেই আলু চাষ শুরু করতে হয়। ফলে সময়মতো আবাদ শুরু করতে পারছেন না কৃষকরা।

তানোর উপজেলার আলুচাষি শরিফুল ইসলাম বলেন, “সরকারি দরে টিএসপি ও ডিএপি সার পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু বস্তাপ্রতি তিন থেকে চারশ টাকা বেশি দিলে আবার সার মিলছে। এতে আমাদের চাষাবাদ ব্যয় অনেক বেড়ে যাচ্ছে।”

কৃষকরা দ্রুত সার সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

আরও খবর

Sponsered content