প্রতিনিধি ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৪:২৩:৩৪ প্রিন্ট সংস্করণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ততই প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। উঠান বৈঠকসহ বিভিন্নভাবে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টায় প্রার্থীরা। তবে শরীয়তপুর-৩ (ডামুড্যা, ভেদরগঞ্জ ও গোসাইরহাট) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাবেক একান্ত সচিব, সাবেক ছাত্রনেতা মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুকে নিয়ে সর্বত্র ঝড় উঠেছে। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে রয়েছেন তিনি।
সরেজমিন ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডামুড্যা, গোসাইরহাট ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার একাংশ নিয়ে এই আসনে দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগের এমপি ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চিত্র পাল্টে গিয়েছে। আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যুর পর তার ছেলে নাহিম রাজ্জাক এই আসনে ৪ বার এমপি ছিলেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে প্রথম নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। ওই বছর ২৪ ডিসেম্বর সকালে নুরুদ্দিন অপু গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুরের নিজ বাড়ি থেকে নেতাকর্মীসহ মিছিল নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় গোসাইরহাট উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে যাচ্ছিলেন।
মিছিলটি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ভবনের সামনের সড়কে পৌঁছালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নাহিম রাজ্জাকের সমর্থক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা অপুকে হত্যার উদ্দেশে হামলা চালায়। এ সময় নুরুদ্দিন অপুসহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের প্রায় ৩০ নেতাকর্মী আহত হয়। গুরুতর অবস্থায় অপুকে হেলিকপ্টারে করে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আর অন্যান্যরা বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর অপুকে গ্রেপ্তার করে নানান মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় ২০২৪ পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন।
আরও জানা গেছে, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর তিনি কারাগার থেকে মুক্ত হন। কারাগারে থাকাকালীন শরীয়তপুরে বিএনপিকে নানানভাবে সংগঠিত করে রাখতেন তিনি। কারামুক্ত হওয়ার ১ বছর দেশে আসলে বিএনপিসহ দলমত নির্বিশেষে শরীয়তপুরের লক্ষ জনতাকে তাকে পথে পথে সংবর্ধনা দেন। এ আসনে আরও ৩ জন প্রার্থী থাকলেও তিনি সবার শীর্ষে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন দলীয় কর্মীরা ও স্থানীয়রা। তাদের বিশ্বাস অপু এমপি হলে মন্ত্রী আর শরীয়তপুরের উন্নয়ন করবেন। এ কারণে অনান্য দলের নেতাকর্মীরাও তাকে সমর্থন দিচ্ছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নুরুদ্দিন অপু এইচএসসি পাশ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালেয় অর্থনীতিতে ভর্তি হয়েই ছাত্রদলের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে কাজ করেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের শ্লোগান মাস্টার হিসেবে প্রথম বর্ষেই সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির (খালেক-সুরুজ) সদস্য হন তিনি। পরে (টিপু-সাত্তার কমিটি) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের(লাল্টু-হেলাল কমিটি) সহ সমাজ সেবা সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি।
দলীয় দায়িত্বের পাশাপাশি বনানী দলীয় চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ের বিভিন্ন কাজে বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানের দেশব্যাপী পরিচালিত বিভিন্ন সাংগঠনিক ও জনসেবামূলক কর্মসূচিতে বিশেষ দায়িত্ব পালন করেন মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। একপর্যায়ে তিনি তার একান্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। জিয়া পরিবারের বিশ্বস্ত ছায়াসঙ্গী হওয়ার কারণে শুধু শরীয়তপুর-৩ আসনই নয় শরীয়তপুরসহ দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ তাকে স্বপ দেখছেন। তিনি দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে একজন আইডলে পরিণতে হয়েছেন। নির্বাচনে বিজয় এখন সময়ের ব্যাপার। নির্বাচিত হলে তিনি মন্ত্রী পরিষদের সদস্য হতে পারেন আশাবাদী এই অঞ্চলের মানুষ।
এ আসনের অনেকেই বলেন, মিয়া নুরুদ্দিন অপুর পক্ষেই সম্ভব এই আসনের কাঙ্খিত উন্নয়ন। সব প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছেন তিনি। কারণ, তিনি সুস্থধারার মানবিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন। ইতিমধ্যে তিনি দলমত নির্বিশেষে সকলের আস্থা অর্জন করেছেন। তিনি এমপি হলে মন্ত্রী হবেন, আর আমাদের এলাকায় অনেক বেশি উন্নয়ন হবে। তাই আমরা দলমত ঊর্ধ্বে থেকে নুরুদ্দিন অপুকে চাই।
এ ব্যাপারে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজীবন দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। তাদের ধারাবাহিকতায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। শরীয়তপুরের জনগণ এবার ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরিবর্তনের প্রত্যাশায় সামনে এগিয়ে এসেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শরীয়তপুর আমার পরিবার। এখানকার প্রত্যেকটি মানুষ আমান পরিবারের সদস্য। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনে আমরা বিজয়ী হলে শরীয়তপুরকে একটি আধুনিক বাণিজ্যিক হাবে পরিণত করে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় জেলায় রূপান্তরিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাব। আর উন্নয়নের পাশাপাশি সুশাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।’














