প্রতিনিধি ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১০:২০:৩১ প্রিন্ট সংস্করণ
সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় সেনা মসজিদ প্রাঙ্গণে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম. নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন পদবির কর্মকর্তা, অন্যান্য পদবির সদস্য এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় নিহত পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
নিহতরা সেনারা হলেন- নাটোরের বাসিন্দা করপোরাল মো. মাসুদ রানা, কুড়িগ্রামের বাসিন্দা সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম ও সৈনিক শান্ত মন্ডল, রাজবাড়ীর বাসিন্দা সৈনিক শামীম রেজা, কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং গাইবান্ধার বাসিন্দা লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া।
জানাজার আগে নিহত সেনাসদস্যদের সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত পাঠ করে শোনানো হয়। পরে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাদের প্রতি যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়।
জানাজা শেষে শাহাদাতবরণকারীদের পরিবারের কাছে প্রধান উপদেষ্টার স্বাক্ষরিত পৃথক পৃথক শোকবার্তা হস্তান্তর করা হয়। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিহত সেনাসদস্যদের মরদেহবাহী হেলিকপ্টার নিজ নিজ জেলার উদ্দেশে যাত্রা করে, যাতে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন করা যায়।
এর আগে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৫ মিনিটে নিহত ছয় শান্তিরক্ষীর মরদেহ ঢাকায় পৌঁছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম নিহতদের মরদেহ গ্রহণ করেন। এ সময় উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন এবং সম্মান জানিয়ে স্যালুট প্রদান করেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের কাদুগলি লজিস্টিকস বেইসে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয় শান্তিরক্ষী শাহাদতবরণ করেন এবং নয়জন আহত হন।
আহত শান্তিরক্ষীরা হলেন- কুষ্টিয়ার বাসিন্দা লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান, দিনাজপুরের বাসিন্দা সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন, ঢাকার বাসিন্দা করপোরাল আফরোজা পারভিন ইতি, বরগুনার বাসিন্দা ল্যান্স করপোরাল মহিবুল ইসলাম, কুড়িগ্রামের বাসিন্দা সৈনিক মো. মেজবাউল কবির, রংপুরের বাসিন্দা সৈনিক মোছা. উম্মে হানি আক্তার, মানিকগঞ্জের বাসিন্দা সৈনিক চুমকি আক্তার এবং নোয়াখালীর বাসিন্দা সৈনিক মো. মানাজির আহসান। আহতরা বর্তমানে সবাই শঙ্কামুক্ত।









