প্রতিনিধি ১৪ জুলাই ২০২৬ , ৩:০২:১৭ প্রিন্ট সংস্করণ
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালকে সামনে রেখে নিজেদের প্রধান ঘাঁটি কানসাস সিটিকে বিদায় জানিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শেষ অনুশীলন শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শহরটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এখন তাদের পুরো মনোযোগ আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনাল লড়াইয়ে।
সোমবার কানসাস সিটিতে শেষ অনুশীলন সেশনের পরে নিজের ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে চারটি ছবি পোস্ট করেন মেসি। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘কানসাস সিটিতে আমাদের শেষ অনুশীলন! সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ।’ সংক্ষিপ্ত হলেও আবেগঘন এই বার্তায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে গত কয়েক মাসে শহরটির সঙ্গে গড়ে ওঠা আর্জেন্টিনা দলের সম্পর্ক।
মেসির পথ অনুসরণ করে সতীর্থ ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজও কানসাস সিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি লেখেন, ‘ধন্যবাদ কানসাস! আমাদের যাত্রা এখনও অব্যাহত আছে।’
বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বের প্রস্তুতির জন্য গত ৩১ মার্চ কানসাস সিটিতে পৌঁছেছিল আর্জেন্টিনা। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে শহরটিই ছিল লিওনেল স্কালোনির দলের অনুশীলন ও প্রস্তুতির কেন্দ্র। এখান থেকেই টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইগুলোর প্রস্তুতি নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।
কানসাস অধ্যায় শেষ করে এখন আটলান্টার পথে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আগামীকাল মার্সিডিজ-বেনজ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচের ফলই নির্ধারণ করবে মেসিদের পরবর্তী গন্তব্য।
ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠতে পারলে আর্জেন্টিনা যাবে নিউইয়র্কের নিউজার্সিতে। আগামী রোববার (১৯ জুলাই) সেখানে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের মহাফাইনাল, যেখানে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
অন্যদিকে সেমিফাইনালে পরাজিত হলে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে যেতে হবে মায়ামিতে। শহরটির সঙ্গে মেসির রয়েছে বিশেষ সম্পর্ক। ২০২৩ সালে ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে সপরিবারে সেখানেই বসবাস করছেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবল কিংবদন্তি।
তবে আপাতত মায়ামিতে ফেরার কথা ভাবছেন না মেসি। তার লক্ষ্য একটাই ইংল্যান্ডকে হারিয়ে নিউইয়র্কের ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আর্জেন্টিনার যে ঐতিহাসিক স্মৃতি তৈরি হয়েছিল, সেই উত্তরাধিকার ধরে রেখে আরেকটি স্মরণীয় জয় উপহার দেওয়ার প্রত্যাশা নিয়েই আটলান্টায় নামছে মেসি, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও তাদের সতীর্থরা।















