সারাদেশ

হাদির হামলাকারীরা ভারতে পালানোর বিষয়ে নিশ্চিত নয় বিজিবি

  প্রতিনিধি ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৫:১২:৪৭ প্রিন্ট সংস্করণ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীরা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে কি না, তা শতভাগ নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত দিয়ে মানবপাচারকারী চক্রের টিম লিডার ফিলিপ স্নালকে গ্রেপ্তারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বিজিবি। তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হামলাকারীদের পলায়নের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এ নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর খাগডহরের মাল্টিপারপাস শেডে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিজিবি ময়মনসিংহ সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সরকার মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি জানান, পুলিশ, বিজিবি এবং সোর্সের তথ্যে এ ঘটনার সঙ্গে ফিলিপ স্নালের সম্পৃক্ততার বিষয়টি বারবার উঠে আসছে। কারণ পাচারকারীদের সহযোগিতা ছাড়া সীমান্ত পার হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। একই দিন শুক্রবার রাত ৮টা ৩০ মিনিট থেকে ৯টার মধ্যে বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনায় ৩৯ বিজিবি সম্ভাব্য পাচারের রুটগুলো চিহ্নিত করে টহল ও চেকপোস্ট বসানো হয় সীমান্তের অধিকাংশ স্থানে। পরদিন শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়। ঢাকা থেকে আগত পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বিজিবি ময়মনসিংহ সেক্টর কমান্ডারের নিয়মিত যোগাযোগ ও অভিযান সংক্রান্ত আলোচনা হয়। আলোচনায় দুই স্থানে একসঙ্গে অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়। সন্দেহভাজন হিসেবে শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে অবস্থানরত ফিলিপ স্নালকে আটকের পরিকল্পনা করা হয়। পুলিশের আরেকটি টিম হালুয়াঘাট এলাকায় অভিযানের পরিকল্পনা করে। হালুয়াঘাটে অভিযানে বিজিবি সোর্স ও অন্যান্য তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করে।

সেক্টর কমান্ডার আরও জানান, তার নেতৃত্বে শেরপুরের নালিতাবাড়ীর বারোমারি এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয় বিজিবির নেতৃত্বে এবং ঢাকা থেকে আগত ও হালুয়াঘাট থানার পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে। কিন্তু ফিলিপকে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী ডেলটা চিরান, শ্বশুর ইয়ারসন রংডি এবং মানবপাচারকারী লুইস লেংমিঞ্জাকে আটক করা হয়। তাদের বাড়ি থেকে একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়। এখন পর্যন্ত বিজিবি চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে সোমবার সকালে মানবপাচারকারী বেঞ্জামিন চিরামকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির অন্যান্য কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও খবর

Sponsered content