প্রতিনিধি ১১ অক্টোবর ২০২৬ , ২:১৪:২৬ প্রিন্ট সংস্করণ
হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৪০ রানে গুটিয়ে গেছে আফগানিস্তান। এতে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করার কীর্তি গড়েছেন মাহমুদ। তার আগে ২০০৩ সালে আলোক কাপালি ও ২০১৩ সালে সোহাগ গাজী এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। তবে আগের দুজনই ছিলেন স্পিনার। ফলে প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন হাসান। দ্বিতীয় নতুন বল হাতে পেয়ে দারুণ কার্যকর বোলিং করেন তিনি।
মাহমুদ ৫৫ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন। অন্যদিকে এবাদত হোসেন শিকার করেছেন ৪ উইকেট। পেসারদের দাপটে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে টেস্টে প্রথম হ্যাটট্রিক করার কীর্তিও গড়েছেন মাহমুদ। এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে আফগানিস্তানের পেসাররা ৯ উইকেট নিয়েছিলেন।
২০২৪ সালে অভিষেকের পর সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও পাকিস্তানের মাটিতে টেস্টে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন মাহমুদ। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত ৫০ টেস্ট উইকেট নেওয়ার রেকর্ডও গড়েছেন তিনি।
তৃতীয় দিনের সকাল শুরু হয়েছিল এবাদতের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে। তার বল ব্যাট ও প্যাডের মাঝ দিয়ে ঢুকে আফগানিস্তানের সহ-অধিনায়ক ইকরাম আলিখিলের স্টাম্প ভেঙে দেয়। ১০৩ বলে ৩২ রান করে বিদায় নেন আলিখিল।
অন্য প্রান্তে শুরু হয় মাহমুদের তাণ্ডব। ইনিংসের প্রথম বলেই তুলনামূলক বেশি দৈর্ঘ্যের ডেলিভারিতে ইসমত আলমকে বোল্ড করেন তিনি। পরের বলেই বাইরে বেরিয়ে যাওয়া বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন কাইস আহমেদ। দারুণ ক্যাচ নেন লিটন দাস, আগের দিন সন্ধ্যায়ও উইকেটের পেছনে ভালো কাজ করেছিলেন তিনি।
হ্যাটট্রিকের বলটিও ছিল তুলনামূলক বেশি দৈর্ঘ্যের। পিচে পড়ে বলটি ভেতরের দিকে ঢুকে জিয়া-উর-রহমানের পেছনের প্যাডে আঘাত করে। আম্পায়ার প্রথমে তাকে আউট না দিলেও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানান। বড় পর্দায় পরপর তিনটি লাল সংকেত দেখা যেতেই উল্লাসে মেতে ওঠে বাংলাদেশের শিবির। এরপর ইয়ামিন আহমদজাইকে শূন্য রানে ফিরিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন মাহমুদ।
আফগানিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ১০৫ রান করে অপরাজিত থাকেন রহমত শাহ। মাহমুদের ২১তম ওভারে একটি ছক্কা ও দুটি চার মেরে ৯১ থেকে ১০৫ রানে পৌঁছান তিনি। তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছে রহমতের মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি। তবে পরের ওভারেই এবাদতের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মোহাম্মদ সেলিম।
এর আগে দ্বিতীয় দিনের খেলায় ১২০ বলে ৬২ রান করেছিলেন মালিক। তার ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার। টেস্টে নিজের প্রথম অর্ধশতকে আফগানিস্তানকে ভালো সূচনা এনে দিয়েছিলেন তিনি। তবে এবাদতের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে থামে তার ইনিংস। এরপর হাশমতউল্লাহ শহিদিকে শূন্য রানে স্টাম্পিং করে ফেরান লিটন।
পঞ্চম উইকেটে রহমত ও আলিখিল যোগ করেন ৮০ রান। শুরুতে কয়েকটি চার মারার পর পরের নয় ওভারে রান তোলার গতি কমিয়ে দেন তারা। পরে আরও দুটি চার মারলেও পরবর্তী ১৭ ওভারে কোনো বাউন্ডারি আসেনি। এই সময়ে বেশির ভাগ ওভার করেন বাংলাদেশের স্পিনাররা। এক-দুই রান নিয়ে স্কোর এগিয়ে নিলেও মেহেদী হাসান মিরাজ, নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলাম লাইন ও লেংথ ধরে রেখে চাপ বজায় রাখেন। দিনের শেষ দিকে মেহেদীর ওভারে দুটি চার মেরে চাপ কাটানোর চেষ্টা করেন রহমত। পরে আলিখিলও সোজা ব্যাটে একটি চার মারেন।
শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানের নিচের সারির ব্যাটসম্যানদের দ্রুত ফিরিয়ে বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান হাসান মাহমুদ। তার হ্যাটট্রিক ও পাঁচ উইকেটের সুবাদে ম্যাচে চালকের আসনে এখন বাংলাদেশ।















