সারাদেশ

মান্দায় জমি বিরোধে শিক্ষক আটক: ‘গায়েবি’ চাঁদাবাজি মামলার অভিযোগে উত্তেজনা

  নওগাঁ প্রতিনিধি ৪ এপ্রিল ২০২৬ , ৭:৩৮:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও হাফেজদের বিরুদ্ধে দায়ের করা চাঁদাবাজি মামলাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মামলার প্রেক্ষিতে এক শিক্ষককে ‘ওসি স্যার দেখা করতে বলেছেন’ বলে ডেকে নিয়ে বিনা ওয়ারেন্টে আটক করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

শনিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ঘটনাটি উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের ডাকাতের মোড় এলাকায়।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আলহাজ কছির উদ্দিন চৌধুরী নূরানী হাফিজিয়া কাওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানার সহকারী শিক্ষক হাফেজ মেহেদীকে শুক্রবার বিকেলে মাদ্রাসা থেকে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোকাররম ডেকে নেন। তাকে জানানো হয়, “ওসি স্যার আপনার সঙ্গে দেখা করতে বলেছেন।” কিন্তু থানায় যাওয়ার পর তাকে আর ফিরতে দেওয়া হয়নি। পরিবারের অভিযোগ, কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই প্রভাব খাটিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে।

স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে, মামলার বাদীর ভাই একজন বিচারক হওয়ায় তার প্রভাবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, মৈনম মৌজার ৩৯৭ ও ৩৯৮ খতিয়ানের ২৯ শতক জমি ক্রয়ের মাধ্যমে ‘হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) বালক-বালিকা নূরানী ও মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসা’ পরিচালিত হয়ে আসছিল। চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি দলিলমূলে জমিটি ক্রয় করা হয়। এ জমির দখল নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ বেলাল উদ্দিন মন্ডল ও তার সহযোগীরা গত ৩০ মার্চ থানায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও মালামাল চুরির অভিযোগে মামলা করেন।

তবে স্থানীয়দের দাবি, মামলায় উল্লেখিত ভাঙচুর ও চুরির মালামাল ঘটনাস্থলেই পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যা মামলাটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অভিযোগ রয়েছে, আগের ওসি কেএম মাসুদ রানা কোনো তদন্ত ছাড়াই প্রভাবের কারণে মামলাটি রেকর্ড করেছিলেন।

এদিকে মামলার ৩ নম্বর আসামি প্রবীণ শিক্ষক হাফেজ আবু বক্কর সিদ্দিক গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। এছাড়া মাদ্রাসার সামনে জিআই তারের বেড়া দিয়ে শিক্ষার্থী ও মুসল্লিদের চলাচলের পথ বন্ধ করে রাখার অভিযোগও উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।

অভিযোগের বিষয়ে বাদী বেলাল উদ্দিন মন্ডল জমিটি নিজেদের দাবি করলেও চুরির মালামাল ঘটনাস্থলে থাকার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

মান্দা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জমি সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিরপরাধ শিক্ষকদের মুক্তি এবং হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

আরও খবর

Sponsered content